এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (9)
তেলের দামে বড় পতন: বিশ্ববাজার
Untitled design (30)
সোমালি জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বাড়ছেঃ ইয়েমেন উপকূলে তেলবাহী জাহাজ ছিনতাই
Untitled design (12)
ইরানের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প: স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ‘যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হচ্ছে না’
Untitled design (9)
ইরানের পর আরো একটি দেশ দখলের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
Shikor Web Image (25)
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গ্রেনেডে ‘আত্মঘাতী’ সেনাদের প্রশংসা করলেন কিম জং–উন

ট্রাম্প বোর্ড অব পিস বিতর্ক: নতুন করে হাস্যরস অর্ধেক সদস্যরই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ

ট্রাম্প বোর্ড অব পিস বিতর্ক আবারও আলোচনায়। সদস্য দেশের অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধ—এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর, জানুন বিশ্লেষণে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্প বোর্ড অব পিস বিতর্ক এখন বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে। শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে গঠিত এই তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণার পরপরই প্রশ্ন, সমালোচনা ও ব্যঙ্গের জন্ম দিয়েছে। কারণ, বোর্ডের সদস্য তালিকায় থাকা দেশগুলোর প্রায় অর্ধেক নাগরিকই ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং নীতিগত স্ববিরোধিতার একটি বড় উদাহরণ। শান্তির কথা বলা একটি সংস্থার সদস্যরাই যদি একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বাধার মুখে পড়েন, তাহলে সেই সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

দাভোসে জাঁকজমকপূর্ণ ঘোষণা

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বোর্ডের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বোর্ডটিকে জাতিসংঘের একটি বিকল্প কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করেন। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি হবে এমন একটি সংস্থা, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এই ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই ট্রাম্প বোর্ড অব পিস বিতর্ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত হতে শুরু করে। কারণ, ট্রাম্প যেসব দেশকে “বন্ধু রাষ্ট্র” বলে আখ্যা দেন, তাদের অনেকগুলোই আবার তারই আরোপিত অভিবাসন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

কোন কোন দেশ বোর্ডে আছে

বোর্ড অব পিসে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—
আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্দান, কসোভো, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও উজবেকিস্তান।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই তালিকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো প্রভাবশালী দেশ নেই। আবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও বড় স্ববিরোধিতা

চলতি বছর ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করতে আরও কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে প্রায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে বোর্ড অব পিসের একাধিক সদস্য দেশ—
আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, জর্দান, কসোভো, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান ও উজবেকিস্তান।

এখানেই ট্রাম্প বোর্ড অব পিস বিতর্ক সবচেয়ে তীব্র রূপ নেয়। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার বোর্ডে থাকা দেশের নাগরিকরাই যদি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারেন, তাহলে এই বোর্ড বাস্তবে কীভাবে কাজ করবে?

ট্রাম্প বোর্ড অব পিস বিতর্ক: কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ডকে “ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী সংস্থা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বোর্ডের কাঠামো অনুযায়ী—

  • ডোনাল্ড ট্রাম্প হবেন চেয়ারম্যান

  • সদস্য অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে তার হাতে

  • কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোট প্রয়োজন

এই কাঠামোকে অনেকেই একক নেতৃত্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতাবিহীন বলে সমালোচনা করছেন।

গাজা প্রসঙ্গ: বদলে যাওয়া লক্ষ্য?

শুরুর দিকে বলা হয়েছিল, গাজা উপত্যকায় ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নিয়ে কাজ করাই বোর্ড অব পিস গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে সম্প্রতি মিডল ইস্ট আই-এর হাতে আসা একটি নথিতে ফিলিস্তিন বা গাজা বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

বরং নথিতে বলা হয়েছে, বোর্ডটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন এবং সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

নথিতে উল্লেখ আছে—
“দীর্ঘস্থায়ী শান্তি তখনই সম্ভব, যখন বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন ও সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করা হবে।”

এই অবস্থান পরিবর্তনও ট্রাম্প বোর্ড অব পিস বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছে।

আর্থিক শর্ত ও বিতর্কিত সদস্য

বোর্ডের সদস্য হতে প্রতিটি দেশকে দিতে হবে ১ বিলিয়ন ডলার করে। এই বিপুল অর্থনৈতিক শর্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে, যা অতীতের ইরাক যুদ্ধসহ নানা বিতর্কের কারণে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

‘নতুন গাজা’ ও জ্যারেড কুশনারের উপস্থাপনা

বোর্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার একটি বিতর্কিত উপস্থাপনা করেন। সেখানে কম্পিউটার-নির্মিত (CGI) ছবিতে দেখানো হয়—

  • বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট

  • ডেটা সেন্টার

  • সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন এলাকা

  • ১ লাখের বেশি আবাসন ইউনিট

  • ৭৫টি চিকিৎসাকেন্দ্র

এই উপস্থাপনাকে অনেকেই বাস্তবতা বিচ্ছিন্ন ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বলে আখ্যা দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ

বিশ্ব রাজনীতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নতুন নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘের মতো একটি প্রতিষ্ঠিত সংস্থার বিকল্প গড়তে হলে ব্যাপক আন্তর্জাতিক ঐকমত্য প্রয়োজন।

শান্তির বোর্ড, না রাজনৈতিক কৌশল?

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন,
“আমেরিকা যখন সমৃদ্ধ হয়, তখন পুরো বিশ্ব সমৃদ্ধ হয়।”

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের সঙ্গে বোর্ড অব পিসের বাস্তব কাঠামোর মিল পাওয়া কঠিন। সদস্য দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, একক নেতৃত্বের আধিপত্য এবং অস্পষ্ট লক্ষ্য—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

সবশেষে বলা যায়, ট্রাম্প বোর্ড অব পিস বিতর্ক শুধু একটি সংস্থাকে ঘিরে নয়, বরং এটি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সামগ্রিক দর্শন ও বাস্তবতার মধ্যকার দ্বন্দ্বের প্রতিফলন।

সর্বাধিক পঠিত