ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে নতুন ইতিবাচক আপডেট এসেছে। সাদিক কায়েমকে সামনে আনার বিষয়ে দলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র পল্টন, মতিঝিল, রমনা, শাহবাগ ও শাহজাহানপুর নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে দলে আলোচনা এখন তুঙ্গে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ড. হেলাল উদ্দিনের পরিবর্তে ডাকসু ভিপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েমকে সামনে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্তের খুব কাছে পৌঁছে গেছে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি, তবে পরবর্তী দুই-এক দিনের মধ্যেই নিশ্চয়তা আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আভাস দিচ্ছেন।
জামায়াত ইসলামী যে আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করতে যাচ্ছে—এ তথ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ ঢাকা-৮ সবসময়ই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসন হিসেবে পরিচিত। এবারও ব্যতিক্রম নয়। এখানে লড়াই হবেন বিএনপির হেভিয়েট নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির সঙ্গে।
—
ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত প্রার্থী পরিবর্তন: আলোচনার মূল কারণ
দলীয় সূত্র জানায়, তৃণমূল নেতাদের পরামর্শ, মাঠের জরিপ এবং সম্ভাব্য জয়ের হিসাব–নিকাশ মিলিয়ে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে দলটি। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে আসছেন অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। এলাকা জুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন, মিছিল, সমাবেশে তার সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। তবু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মূল্যায়নে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন নীতিনির্ধারকরা।
প্রার্থিতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে একাধিক গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছিল। কেউ কেউ বলেছিলেন, দলের আলোচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদিকে সমর্থন দিতে পারে জামায়াত। তবে হঠাৎ করেই আলোচনায় উঠে আসে সাদিক কায়েমের নাম, যা নতুন হিসাব তৈরি করে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন—সবকিছু এখনো আলোচনার পর্যায়ে। তিনি বলেন,
“অনেক বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। সময় হলে সবাই জানতে পারবেন।”
—

সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করা হলে কী পরিবর্তন আসবে?
দলের তরুণ নেতাদের মধ্যে সাদিক কায়েম অন্যতম পরিচিত মুখ। ডাকসু ভিপি হিসেবে তার সক্রিয়তা এবং ছাত্র রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা তাকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাদিককে প্রার্থী করলে এলাকায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদি ফেসবুকে সাদিক কায়েমের সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি লিখেছেন—
“সাদিক কায়েম আমার ভাই। তিনি ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করলে আমার ইলেকশন জার্নিটা আরও দারুণ হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।”
এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ দুইজনই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আলোচিত ছিলেন। একই আসনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটারদের মাঝে নতুন ধরণের আগ্রহের জন্ম দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
—
ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত প্রার্থী পরিবর্তন বিষয়ে তৃণমূলে প্রতিক্রিয়া
পল্টন থানা জামায়াতের এক নেতা জানিয়েছেন—এ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ নেই। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, প্রার্থী পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন,
“এটুকু ঠিক আছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।”
তৃণমূলে যেটুকু জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহের জরিপে দেখা যায়—সাদিক কায়েমের গ্রহণযোগ্যতা এলাকায় বেশ উঁচু। তরুণ এবং প্রথমবার ভোটারদের মধ্যে তার প্রভাব তুলনামূলক বেশি। এই কারণেই তাকে সামনে আনার চিন্তা করছে দলটি।
—
জামায়াতের অন্য আসনগুলোতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শুধু ঢাকা-৮ নয়—দেশের আরো কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে হবিগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন পাওয়া মুখলিছুর রহমান নিজে থেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে দলের সাংবাদিক নেতা অলিউল্লাহ নোমানকে সমর্থন দেন।
এ থেকেই বোঝা যায়, জামায়াত এবার তৃণমূল এবং মাঠের জরিপকে প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থী final করছে।
—
মাঠের প্রস্তুতি: প্রচারণায় এগিয়ে হেলাল উদ্দিন
যদিও ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত প্রার্থী পরিবর্তন প্রক্রিয়াধীন—তবু অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন গত এক মাস ধরে নিরলস প্রচারণা চালিয়েছেন। এলাকায় পোস্টার–ব্যানার ঝুলিয়ে ডোর-টু-ডোর প্রচারণা করছেন দলের কর্মীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—যদি প্রার্থী আসলেই পরিবর্তন হয়, তবে নতুন প্রার্থীকে দ্রুত মাঠে নেমে কাজ করতে হবে।
—
ভোটার আচরণ ও সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ
ঢাকা-৮ আসনে সবসময় তিন প্রধান দলের শক্ত প্রভাব থাকে—
✔ বিএনপি
✔ আওয়ামী লীগ (এবার পরিস্থিতির কারণে তুলনামূলক কম সক্রিয়)
✔ জামায়াতের সংগঠনী শক্তি
এ ছাড়াও নতুন শক্তি হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চ এবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ফলে ভোটযুদ্ধ হবে ত্রিমুখী।
বিশ্লেষকদের মতে—
জামায়াত যদি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করে, তবে তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন গতি আসতে পারে।
বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে এখনো এগিয়ে আছেন।
শরিফ ওসমান হাদি নতুন প্রজন্মের ভোটারদের বড় একটি অংশে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম।
ফলে এই আসনের নির্বাচন হবে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
—
ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত প্রার্থী পরিবর্তন বিষয়ে সম্ভাব্য চূড়ান্ত ধাপ
দলীয় নীতিনির্ধারকরা এখন তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিচ্ছেন—
1. মাঠ জরিপ
2. তৃণমূল নেতাদের মতামত
3. জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা
এই তিন সূচকে যদি সাদিক কায়েম এগিয়ে থাকেন—তাহলে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।




