আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (29)
জুলাই জাদুঘরের টিকিট মিলবে অনলাইনে, জেনে নিন প্রক্রিয়া
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (17)
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে এলেন যারা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
বেরোবি ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (25)
বর্তমান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের ১৮ কোটি মানুষ: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় কক্সবাজারের অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় কক্সবাজারের অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না,  বিএনপির ৩৫টি আসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। বিস্তারিত এখানে পড়ুন।

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে সংরক্ষিত নারী আসন কক্সবাজার স্বপ্না নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে সম্ভাব্য ৩৫টি আসন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই প্রেক্ষাপটে কক্সবাজার ও বান্দরবান থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম সর্বাধিক উচ্চারিত হচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আইন পেশায় সাফল্যের কারণে তিনি কেন্দ্র ও তৃণমূল—উভয় পর্যায়েই গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচিত।

রাজনৈতিক যাত্রা ও শিক্ষাজীবন

অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জন করে ধাপে ধাপে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮৪ সালে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর তিনি আইন শাস্ত্রে অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে আইন পেশায় পদার্পণ করেন।

সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও বিএনপিতে ভূমিকা

পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে কক্সবাজার জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

দলের কঠিন সময়ে তিনি সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং তৃণমূলকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে জেলা বিএনপি একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত কাঠামো লাভ করে।

সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনেই বিএনপির বিজয়কে অনেকে তার সাংগঠনিক সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

পেশাগত জীবন ও আইনি সাফল্য

আইন পেশায়ও তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০০১ সালে দেশের প্রথম নারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ চার দশকের আইন পেশায় অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেছেন।

ওয়ান-ইলেভেন সময়কালে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে নির্বাচিত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৯টি মামলার দায়িত্বও পালন করেছেন।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, “বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে মামলা পরিচালনা, আইনি সহায়তা প্রদান এবং কারাবন্দিদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মামলায় আমিও একাধিকবার জড়িয়েছি, তবুও অবস্থান থেকে সরে যাইনি। রাজনীতিতে আমি কারও প্রতিপক্ষ নই এবং আমার সঙ্গে কারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নেই।”

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের দাবী

কক্সবাজার ও বান্দরবান থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে তার মনোনয়নের দাবী জোরালো হচ্ছে। কক্সবাজার সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস. এম. আকতার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে সংগ্রামী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব দেখতে চান। তার মতে, সংরক্ষিত নারী আসন কক্সবাজার স্বপ্না দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইন পেশার অভিজ্ঞতায় এ আসনের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সৈয়দ আলম বলেন, “শামীম আরা বেগম স্বপ্না দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে আইনি লড়াইয়ে অটল ছিলেন। তিনি পরীক্ষিত নেতা—তাই তার বিকল্প দেখছি না।”

রেড ক্রিসেন্ট জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম বলেন, “জেলা বিএনপির দীর্ঘকালীন সাধারণ সম্পাদক স্বপ্না স্থানীয় রাজনীতি ও আইনাঙ্গনে নিপীড়িত মানুষের পরম বন্ধু হিসেবে পরিচিত। তাই তার ত্যাগ, অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও পেশাগত সাফল্যের কারণে সংরক্ষিত নারী আসনে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।”

সমর্থক ও বিশেষজ্ঞের মতামত

অনেকে মনে করছেন, দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও আইন পেশার অভিজ্ঞতা মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসন কক্সবাজার স্বপ্না এই আসনের জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। তার নেতৃত্বে জেলা বিএনপি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

সর্বাধিক পঠিত