দিল্লি বিমানবন্দরে জুরিখগামী বিমানে আগুন লাগার ঘটনায় ৬ যাত্রী আহত হন। উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিনে ত্রুটি থেকে দুর্ঘটনা, জরুরি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সুইস এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোরে উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে রানওয়েতে থাকা অবস্থায় দিল্লি বিমানবন্দরে সুইস ফ্লাইটে আগুন লাগে। এতে ৬ জন যাত্রী আহত হন এবং পুরো বিমানটিতে থাকা ২৩২ জনকে দ্রুত জরুরি স্লাইডের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির শঙ্কা থাকলেও পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং জরুরি ব্যবস্থার কারণে একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রানওয়েতে ভয়াবহ মুহূর্ত
সুইস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ‘এলএক্স১৪৭’ ফ্লাইটটি জুরিখের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিমানটি রানওয়েতে গতি বাড়ানোর সময় হঠাৎ একটি ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর পরপরই ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় এবং ধোঁয়া বের হতে শুরু করে।
এই সময়েই দিল্লি বিমানবন্দরে সুইস ফ্লাইটে আগুন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। অনেকেই চিৎকার শুরু করেন এবং কেবিনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্তে বড় বিপদ এড়ানো

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই পাইলট উড্ডয়ন বাতিল করেন। বিমানটি রানওয়েতে থামানোর পরপরই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
বিমানবন্দরের ফায়ার ও রেসকিউ ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এই সময়ই পুনরায় দিল্লি বিমানবন্দরে সুইস ফ্লাইটে আগুন বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে।
জরুরি উদ্ধার অভিযান
বিমানে মোট ২২৮ জন যাত্রী এবং ৪ জন শিশু ছিলেন। আগুন লাগার পরপরই “ফুল ইমার্জেন্সি” ঘোষণা করা হয়।
জরুরি স্লাইড এবং সিঁড়ি ব্যবহার করে সকল যাত্রীকে দ্রুত নিচে নামানো হয়। তবে এই তাড়াহুড়ো পরিস্থিতিতে অন্তত ৬ জন যাত্রী আহত হন। তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই পুরো উদ্ধার অভিযানে দিল্লি বিমানবন্দরে সুইস ফ্লাইটে আগুন পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
আহত যাত্রীদের অবস্থা
আহত ৬ জন যাত্রীর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পর্যবেক্ষণে আছেন। তবে কারও অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিমানবন্দরের প্রতিক্রিয়া
দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং রানওয়ে পরিষ্কার করা হয়। আশ্চর্যজনকভাবে, এই ঘটনার কারণে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচলে বড় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দিল্লি বিমানবন্দরে সুইস ফ্লাইটে আগুন লাগার পর বিমানটি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এখন কারিগরি বিশেষজ্ঞরা ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করছেন।
তদন্ত চলছে ইঞ্জিন ত্রুটির কারণ খুঁজতে
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে সঠিক কারণ নির্ধারণে এখনো তদন্ত চলছে।
বিমান প্রযুক্তি দল পুরো ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশও দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সুইস এয়ারলাইন্সের বিবৃতি
সুইস এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আহত যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা এবং বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে। পাশাপাশি যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, তারা পুরো ঘটনার ওপর নজর রাখছে এবং তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্ত, জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা এবং বিমানবন্দরের প্রস্তুতিমূলক অবকাঠামো থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তবে দিল্লি বিমানবন্দরে সুইস ফ্লাইটে আগুন ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে উড্ডয়ন পূর্ব নিরাপত্তা পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




