পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, যে তারা ক্ষমতায় এলে ইমামদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা এবং সার্ভিস রুল প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন। এটি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
রোববার (৩০ নভেম্বর) নাজিরপুর আলিয়া মাদরাসা চত্বরে অনুষ্ঠিত ইমাম সমাবেশে তিনি এ তথ্য জানান। সমাবেশটি বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, নাজিরপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
ইমামদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা: মাসুদ সাঈদীর পরিকল্পনা
মাসুদ সাঈদী বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে ইমামদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সার্ভিস রুল প্রণয়ন করা হবে, যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, ইসলামের সোনালি যুগে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা হতো মসজিদকে কেন্দ্র করে। বিচার, শিক্ষা ও সামাজিক নির্দেশনা মসজিদ থেকেই প্রদত্ত হতো। কিন্তু বর্তমানে মসজিদকে আমরা শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচনা করি। এই প্রথা পুনরুদ্ধার করার মাধ্যমে সমাজে ধর্মীয় নেতা ও ইমামের মর্যাদা পুনঃস্থাপন করা হবে।

ইমাম সমাবেশে প্রধান বক্তৃতা ও অন্যান্য বক্তব্য
সমাবেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউনিয়নের ইমামরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ সাঈদী মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন:
-
ইমামদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা – সরকারিভাবে সম্মানী ভাতা প্রদানের প্রস্তাব।
-
রাষ্ট্রীয় সার্ভিস রুল – ইমামদের চাকরি ও দায়িত্বের কাঠামোতে নতুন নিয়ম প্রণয়ন।
-
ইসলামের সোনালি যুগের পুনঃউদ্ধার – মসজিদকে সামাজিক ও শিক্ষামূলক কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা।
-
কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি – সরকারি কর্মক্ষেত্রে কওমি সনদের মূল্যায়ন।
-
সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী শিক্ষার ব্যবহার – মসজিদ থেকে বিচার ও সমাজিক জ্ঞানের সম্প্রচার।
সমাবেশের অন্যান্য বক্তারা:
-
বাংলাদেশ ইমাম সমিতির নাজিরপুর উপজেলা সভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ বেলালী
-
জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলার সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক শেখ
-
নাজিরপুর উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক
-
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নাজিরপুর উপজেলা সভাপতি মাহবুবুর রহমান ফিরোজী
ইমামদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা কেন জরুরি?
বর্তমানে দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক অবস্থা অনেকটাই সংকটাপন্ন। তাদের অনেকেই মাসিক আয় থেকে পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সংগ্রাম করছেন। ইমামদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রদান করলে:
-
ইমামরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।
-
মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষায় আরও মনোযোগ দিতে পারবেন।
-
সমাজে ধর্মীয় নেতৃত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
-
যুব সমাজে ইসলামের শিক্ষার প্রসার আরও সহজ হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
মসজিদকে পুনরায় সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে উন্নীত করা
মাসুদ সাঈদী বলেন, “ইসলামের সোনালি যুগে সমাজ পরিচালনা হতো মসজিদ কেন্দ্রিক। আমাদের লক্ষ্য সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা।”
তিনি উল্লেখ করেন, মসজিদ শুধুমাত্র প্রার্থনার স্থান নয়, বরং বিচার, শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে। এজন্য রাষ্ট্রীয় সমর্থন প্রয়োজন।
সমাবেশে উপস্থিত ইমাম ও নেতাদের প্রতিক্রিয়া
নাজিরপুর উপজেলার প্রায় সকল মসজিদের ইমামরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তারা মাসুদ সাঈদীর ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষভাবে তারা উল্লেখ করেছেন:
-
ইমামদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা তাদের কার্যক্রমকে আরও সুষ্ঠু করবে।
-
কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি কর্মক্ষেত্রে সুযোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা।
-
সার্বিকভাবে সমাজে ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার।
মাসুদ সাঈদীর এই ঘোষণা শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার একটি বাস্তব পদক্ষেপ। ইমামদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা ও সার্ভিস রুল প্রণয়ন সমাজে ইসলামী মূল্যবোধকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এবং মসজিদকে আবারও শিক্ষার, বিচার ও সমাজ পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে উন্নীত করবে।




