ইরানে ৯ দিনের হামলায় নিহত ১২৫৫ এবং আহত ১২ হাজারের বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে ১৪ দেশে—জানালেন ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ইরানে ৯ দিনের হামলায় নিহত ১২৫৫—এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত ১,২৫৫ জন নিহত এবং ১২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ইরানকে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলের দিকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে এখন অঞ্চলটির অন্তত ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
হামলার পর হতাহতের ভয়াবহ চিত্র

ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফারিয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ৯ দিনের হামলায় নিহত ১২৫৫ জনের মধ্যে নারী, শিশু এবং স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ রয়েছেন।
তিনি জানান, হামলায় নিহত ও আহতদের বয়সের পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত—মাত্র ৮ মাস বয়সী শিশু থেকে শুরু করে ৮৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ পর্যন্ত এই হামলার শিকার হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন নারী রয়েছেন। এই পরিসংখ্যান হামলার মানবিক প্রভাব কতটা গভীর তা স্পষ্ট করে।
মিনাব এলিমেন্টারি স্কুলে হামলায় নিহত ১৬৮ শিশু
হতাহতের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে মিনাব এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মিনাব এলিমেন্টারি স্কুলে হামলায় ১৬৮ জন শিশু নিহত হয়েছে। এই ঘটনাটি দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিদ্যালয়ে হামলার এই তথ্য আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুদের ওপর এমন হামলা যুদ্ধের মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্বাস্থ্যখাতেও বড় ক্ষতি
হামলায় শুধু সাধারণ নাগরিকই নয়, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও বড় ধাক্কা খেয়েছে।
ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান—
-
১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন
-
৫৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী আহত হয়েছেন
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—
-
৪ জন চিকিৎসক
-
২ জন নার্স
-
৩ জন জরুরি সেবা কর্মী
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের এমন ক্ষতি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার পটভূমি: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু
এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন থেকে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থামানোর লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে।
হামলার পরপরই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে এমন কিছু আরব দেশেও হামলার ঘটনা ঘটছে, যেখানে মার্কিন ঘাঁটি বা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থ জড়িত রয়েছে।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে ১৪ দেশে
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইরানের পাল্টা হামলা এবং বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনার কারণে সংঘাত এখন অঞ্চলটির ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে
যুদ্ধের এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক মহল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।




