কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংস ছাড়লেন বকেয়া বেতনের অভিযোগে। এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ফুটবলারের বিদায়ে ক্লাব ব্যবস্থাপনা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
এক বছরের ব্যবধানে আবারও বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশের শীর্ষ ফুটবল ক্লাব বসুন্ধরা কিংস। কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংস ছাড়লেন—বকেয়া বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে। এর আগে একই অভিযোগে দল ছেড়েছিলেন জাতীয় দলের ডিফেন্ডার তারিক কাজী। ফলে ক্লাবের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কিউবা মিচেল নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, বেতন বকেয়া থাকাই তাঁর চুক্তি বাতিলের প্রধান কারণ।
বকেয়া বেতন নিয়ে কিউবা মিচেলের স্পষ্ট বক্তব্য
ফেসবুক পোস্টে কিউবা লেখেন, দীর্ঘ সময় ধরে বেতন না পাওয়ার বিষয়টি তাঁর জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছিল। এমন পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে যাওয়া একজন পেশাদার ফুটবলারের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
তিনি বলেন,

“আজ আমি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে আমার চুক্তি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার প্রধান কারণ হলো বকেয়া বেতন।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংস ছাড়লেন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্তে নয়, বরং দীর্ঘদিনের সমস্যার ফল হিসেবে।
কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংস ছাড়লেন: কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
১. এক বছরে দ্বিতীয় ফুটবলারের বিদায়
গত বছরের অক্টোবরে একই অভিযোগ তুলে ক্লাব ছাড়েন তারিক কাজী। এবার কিউবা মিচেলের বিদায় প্রমাণ করে, সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন নয়।
২. জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের ক্ষতি
কিউবা মিচেল বাংলাদেশের জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন। তাঁর বিদায় দেশের ফুটবলের জন্যও এক ধরনের ধাক্কা।
৩. ক্লাব ইমেজে নেতিবাচক প্রভাব
বারবার বেতন বকেয়ার অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বসুন্ধরা কিংসের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
স্বল্প সময় হলেও প্রভাবশালী অভিজ্ঞতা
কিউবা মিচেল জানান, বসুন্ধরা কিংসে তাঁর সময় খুব বেশি দীর্ঘ ছিল না। তবু এই সময়টুকু তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, মানুষ ও সমর্থকদের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সতীর্থ ও সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা তাঁকে ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসা নতুন করে অনুভব করিয়েছে।
পেশাদারিত্ব বনাম মৌলিক দায়বদ্ধতা
কিউবা মিচেল জোর দিয়ে বলেন, তিনি পুরো সময়জুড়ে পেশাদার আচরণ বজায় রেখেছেন। নিয়মিত অনুশীলন, ম্যাচ প্রস্তুতি এবং ক্লাবের প্রতি সম্মান—সবই তিনি পালন করেছেন।
তাঁর ভাষায়,
ফুটবলাররা শুধু মাঠে পারফরম্যান্স দেন না; তারা দেন অঙ্গীকার, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাস। বিনিময়ে ক্লাবেরও মৌলিক দায়িত্ব পালন করা উচিত।
এই বক্তব্যে ফুটবলের পেশাদার কাঠামো নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এসেছে।
তিক্ততা নয়, কৃতজ্ঞতার বিদায়
সব অভিযোগ সত্ত্বেও কিউবা মিচেল কোনো তিক্ততা প্রকাশ করেননি। তিনি জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যে যে সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
এটি দেখায়, কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংস ছাড়লেন হলেও তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে রূপ দেননি।
বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে কিউবার বার্তা
বিদায়ের ঘোষণায় কিউবা মিচেল বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামো নিয়েও কথা বলেন। তাঁর মতে,
বাংলাদেশের ফুটবল আরও ভালো কিছু পাওয়ার দাবি রাখে।
তিনি জোর দেন—
-
খেলোয়াড়দের জন্য ন্যায্যতা
-
পেশাদার কাঠামো
-
প্রতিশ্রুতি রক্ষার সংস্কৃতি
এসব ছাড়া ফুটবলের সম্ভাবনাকে ধরে রাখা সম্ভব নয়।
নীরব খেলোয়াড়দের কণ্ঠস্বর খোঁজার আহ্বান
কিউবা মিচেল বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যেসব খেলোয়াড় বকেয়া বেতন বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে নীরবে কষ্ট পাচ্ছেন, তাঁদের কণ্ঠস্বর খুঁজে পাওয়া জরুরি।
এই বক্তব্য বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে দীর্ঘদিনের একটি অদৃশ্য সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসে।
কিউবা মিচেল: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
-
বয়স: ২০ বছর
-
জন্মস্থান: বার্মিংহাম, ইংল্যান্ড
-
বাবা: জ্যামাইকান
-
মা: বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী
-
সাবেক ক্লাব: সান্ডারল্যান্ড (যুব দল)
-
বসুন্ধরা কিংসে যোগদান: জুলাই, তিন বছরের চুক্তিতে
জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অভিষেক হয় গত নভেম্বরে, নেপালের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচে।
এখন প্রশ্ন—বসুন্ধরা কিংস কি এই অভিযোগগুলোর সমাধান করবে? নাকি ভবিষ্যতেও এমন বিদায় দেখা যাবে?
একটি বিষয় পরিষ্কার, কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংস ছাড়লেন—এই ঘটনা শুধু একটি ক্লাব ছাড়ার খবর নয়, এটি বাংলাদেশের ফুটবলের কাঠামোগত বাস্তবতার প্রতিফলন।




