আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
ফের বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
যন্তর মন্তরে আপত্তিকর স্লোগান, ‘তরুণদের ক্ষমা করার’ আহ্বান মোদির
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
ভিয়েতনামে অবৈধভাবে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
স্পেনের অভিবাসন সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (16)
সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউর পরিধি বাড়াল প্রশাসন

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ: সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩৫

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫; নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার ছাড়াও দেশে অস্থিরতা অব্যাহত।

ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমশ অসহনীয় হয়ে ওঠার কারণে টানা ৯ দিন ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। এই বিক্ষোভে সহিংসতা ও প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক বিঘ্ন এবং কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে প্রকৃত হতাহত ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা নির্ভুলভাবে জানা কঠিন। তবে মানবাধিকার কর্মীদের তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে,

বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে এখন পর্যন্ত ১,২০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। গালফ নিউজ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, ৪ জন শিশু এবং ২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজনা, মারভদাশত ও কোরভেহ শহরে অন্তত ৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৬৪ জন, যাদের শরীরে পেলেট গান এবং প্লাস্টিক বুলেটের চিহ্ন রয়েছে।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য এবং ৪৫ জন বাসিজ স্বেচ্ছাসেবী আহত হয়েছেন।

দেশটির অন্তত ৮৮টি শহরে ২৫৭টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ এবং শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত আছে। কিছু এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরাসরি গুলি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, দেশজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা এবং গ্রেপ্তারের তথ্য ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে পাওয়া গেছে।

মাশা আমিনির মৃত্যুর পরের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ

২০২২ সালে ২২ বছর বয়সী কুর্দি ইরানি তরুণী মাশা আমিনি’র মৃত্যুর পর দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু এবার জনগণের অসন্তোষের প্রতি শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে নরম। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন বিক্ষোভকারীদের ‘প্রতিনিধিদের’ সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য, যা সমস্যার সমাধানে একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিক্ষোভের এই নতুন ধারা ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। দেশজুড়ে মানুষ অর্থনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি ন্যায্য এবং নিরাপদ জীবনযাত্রার দাবিতে অবিরাম আন্দোলন চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মানবাধিকার বিষয়ক উদ্বেগ

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা যেমন HRANA এই বিষয়ে তৎপর। তারা সতর্ক করেছেন, যদি সহিংসতা অব্যাহত থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারে।

শিখর টিভি কানাডা পূর্ববর্তী প্রতিবেদনেও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। Shikor TV Canada-এর আগের প্রতিবেদন অনুসারে, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ জনগণের অসন্তোষ বাড়ছে এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 বিক্ষোভের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন অংশে জনজীবন প্রভাবিত হচ্ছে। শহরবাসীর দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সরকার জনগণের দাবিতে মনোযোগ না দেয়, তবে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার নিতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের নরম প্রতিক্রিয়া আশা সৃষ্টি করছে যে, কিছু এলাকায় শান্তি ফিরতে পারে।

 ৭টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা সবাইকে জানতে হবে

  1. মোট নিহত: ৩৫ জন, যার মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, ৪ শিশু এবং ২ নিরাপত্তা বাহিনী।

  2. গ্রেপ্তার: ১,২০০-এর বেশি মানুষ আটক।

  3. আহত: ৬৪ জন, পেলেট গান ও প্লাস্টিক বুলেটের আঘাত।

  4. বিক্ষোভ স্থল: ৮৮টি শহরে ২৫৭টির বেশি স্থানে।

  5. নিরাপত্তা বাহিনী ক্ষতি: প্রায় ২৫০ পুলিশ এবং ৪৫ বাসিজ আহত।

  6. আন্তর্জাতিক উদ্বেগ: HRANA সহ বিভিন্ন সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

  7. প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ: বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক।

এই তথ্যগুলো ইরানে চলমান অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বাধিক পঠিত