আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (16)
ব্রেট লির চোখে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার কে
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (33)
সাকিবকে দেশে ফেরানো নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে গেলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (27)
উয়েফার টাকা ‘প্রেমিকাকে’ দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
ফুলহাম থেকে ধারে নতুন ক্লাবে বাংলাদেশের ফারহান
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (22)
রিয়ালকে ‘না’ বলা রদ্রির জন্য বার্সার কাছে কত চাইল ম্যানসিটি

ডিগবাজি খেয়ে থ্রো-ইন, সেই বলেই গোল—ভাইরাল ইরানি ডিফেন্ডার

ডিগবাজি খেয়ে থ্রো-ইন, নাদের মোহাম্মাদির ডিগবাজি খেয়ে ছোড়া বল থেকে গোল, রাশিয়ায় ৩-১ জিতল স্পার্তাক কোস্ত্রোমা।

ফুটবলে থ্রো-ইন সাধারণত খেলা পুনরায় শুরুর একটি নিয়মিত পদ্ধতি। তবে ইরানের ডিফেন্ডার নাদের মোহাম্মাদি এটিকে পরিণত করেছেন আক্রমণের কার্যকর কৌশলে। রাশিয়ার ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচে স্পার্তাক কোস্ত্রোমার হয়ে ডিগবাজি খেয়ে নেওয়া তার একটি থ্রো-ইন থেকে গোল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

এসকেএ-খাবারোভস্কের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে স্পার্তাক কোস্ত্রোমা ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল। ওই সময় ডান প্রান্ত থেকে থ্রো-ইনের সুযোগ পায় দলটি। বল হাতে নিয়ে দৌড়ে আসেন মোহাম্মাদি। এরপর সামনে ডিগবাজি খেয়ে শরীরের গতি ও শক্তি কাজে লাগিয়ে দুই হাত দিয়ে বল ছুড়ে দেন প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের দিকে।

মোহাম্মাদির ছোড়া বলটি পৌঁছে যায় গোলমুখের খুব কাছে। সেখানে হেড করে বল জালে পাঠান তার সতীর্থ আমুর কালমিকভ। এই গোলের পর ম্যাচে স্পার্তাক কোস্ত্রোমার জয় আরও নিশ্চিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তারা এসকেএ-খাবারোভস্ককে ৩-১ ব্যবধানে হারায়।

ডিগবাজি খেয়ে থ্রো-ইন, এরপর গোল

নাদের মোহাম্মাদির থ্রো-ইনের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল এর ধরন। সাধারণভাবে থ্রো-ইনের সময় খেলোয়াড় স্থির অবস্থান থেকে বল ছোড়েন। কিন্তু মোহাম্মাদি দৌড়ে এসে শরীরকে সামনে ঘুরিয়ে ডিগবাজি খেয়ে বল ছোড়েন।

এই কৌশলে তিনি মূলত শরীরের গতি ও শক্তিকে কাজে লাগান। ফলে বল অনেকটা দূর পর্যন্ত পৌঁছায় এবং প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি হয়।

রাশিয়ার ম্যাচে সেই কৌশলই সরাসরি গোলের সুযোগ তৈরি করে দেয়। বল গোলমুখের কাছাকাছি যাওয়ার পর আমুর কালমিকভ হেডে গোল করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বল হাতে নিয়ে মোহাম্মাদি দৌড় শুরু করছেন। এরপর বলের ওপর ভর দিয়ে শরীরকে সামনের দিকে ঘুরিয়ে ডিগবাজি খেয়ে শক্তিশালী থ্রো-ইন করছেন তিনি।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দৃশ্যটি তাই স্বাভাবিকভাবেই আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।

নাদের মোহাম্মাদির থ্রো-ইন নতুন নয়

রাশিয়ার মাঠে এই কৌশল দিয়ে আলোচনায় এলেও নাদের মোহাম্মাদির থ্রো-ইন নতুন কোনো বিষয় নয়। লম্বা থ্রো-ইনের জন্য ইরানি এই ডিফেন্ডার আগে থেকেই পরিচিত।

২০২০ সালে ইরানের ঘরোয়া ফুটবলে ডিগবাজি খেয়ে নেওয়া তার একটি থ্রো-ইন থেকে সরাসরি গোল হয়েছিল। সেই ঘটনাও তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এর পর ২০২১ সালেও নিজেদের অর্ধ থেকে একই ধরনের থ্রো-ইন করে আলোচনায় আসেন মোহাম্মাদি। তার ছোড়া বল থেকে সে সময় দল কর্নার পেয়েছিল।

অর্থাৎ, থ্রো-ইনকে আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল মোহাম্মাদির জন্য বেশ পুরোনো। রাশিয়ার ম্যাচে আবারও সেই কৌশল কার্যকর হওয়ায় নতুন করে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা

মোহাম্মাদির অভিনব থ্রো-ইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই তার কৌশল দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

কেউ কেউ মজা করে বলেছেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আর্সেনালের কোচ মিকেল আর্তেতা যদি এই কৌশল দেখে ফেলেন, তাহলে হয়তো মোহামাদিকে দলে নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন।

ফুটবলপ্রেমীদের এমন মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সেট-পিস ও থ্রো-ইন থেকে আক্রমণ তৈরির প্রসঙ্গ। তবে এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা মজার মন্তব্য, কোনো দলবদলের খবর নয়।

এই কারণে মোহামাদির সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা তথ্য এই ঘটনায় পাওয়া যায়নি।

ফুটবলে ডিগবাজি থ্রো-ইনের ইতিহাস

ডিগবাজি খেয়ে থ্রো-ইন নেওয়ার কৌশল ফুটবলে একেবারে নতুন নয়। ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকেই এই ধরনের থ্রো-ইন পরিচিতি পেতে শুরু করে।

এস্তোনিয়ার রিস্তো কাল্লাস্তে এবং ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসলের স্টিভ ওয়াটসন সে সময় এই কৌশল ব্যবহার করে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

বর্তমানে নাদের মোহাম্মাদি সেই পুরোনো কৌশলকেই নিজের খেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্যে পরিণত করেছেন। তার লম্বা থ্রো-ইন প্রতিপক্ষের বক্সে দ্রুত বল পৌঁছে দেওয়ার একটি উপায় হিসেবে কাজ করছে।

ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী থ্রো-ইন নেওয়ার সময় নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হয়। নাদের মোহাম্মাদির থ্রো-ইন ও থ্রো-ইনের নিয়ম সম্পর্কে IFAB-এর তথ্য-এ থ্রো-ইনের নিয়মগুলো বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে।

স্পার্তাক কোস্ত্রোমায় মোহাম্মাদির নতুন অধ্যায়

তেহরানে জন্ম নেওয়া নাদের মোহাম্মাদি সম্প্রতি রাশিয়ার ক্লাব স্পার্তাক কোস্ত্রোমায় যোগ দিয়েছেন। তার আগে ইরানের পাইকান, ত্রাকতোর, গোল গোহর ও জোব আহানের হয়ে খেলেছেন তিনি।

মূলত রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হলেও লম্বা ও কৌশলী থ্রো-ইনের কারণে মোহাম্মাদি আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। রাশিয়ার মাঠে এবারও সেই দক্ষতার প্রমাণ মিলেছে।

এসকেএ-খাবারোভস্কের বিপক্ষে ম্যাচে তার থ্রো-ইন থেকে তৈরি হওয়া গোলটি শুধু দলের ব্যবধান বাড়ায়নি, বরং মোহামাদিকে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

স্পার্তাক কোস্ত্রোমার ৩-১ ব্যবধানের জয়ে তার নেওয়া থ্রো-ইন তাই ম্যাচের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকল।

জাতীয় দলে এখনো অভিষেক হয়নি

নাদের মোহাম্মাদি ইরানের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে একটি ম্যাচ খেলেছেন। তবে ইরানের জাতীয় দলের জার্সিতে এখনো তার অভিষেক হয়নি।

রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাব পর্যায়ে খেললেও তার বিশেষ পরিচিতি তৈরি হয়েছে লম্বা থ্রো-ইনের কারণে। ২০২০ ও ২০২১ সালের ঘটনাগুলোর পর রাশিয়ার মাঠে আবারও একই ধরনের কৌশল দেখিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছেন।

নাদের মোহাম্মাদির থ্রো-ইন যে শুধু দর্শকদের বিনোদন দিচ্ছে, তা নয়; সঠিক জায়গায় বল পৌঁছে দিয়ে এটি দলের আক্রমণেও ভূমিকা রাখছে। সর্বশেষ ম্যাচে তার নেওয়া থ্রো-ইন থেকে আমুর কালমিকভের হেডে গোল হওয়াই তার সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ।

ফুটবলে থ্রো-ইনও হতে পারে আক্রমণের অস্ত্র

সাধারণত থ্রো-ইনকে ম্যাচ পুনরায় শুরু করার একটি নিয়মিত পদ্ধতি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ও পরিকল্পিত থ্রো-ইনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বক্সে বল পাঠিয়ে সেটি আক্রমণের অংশ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

মোহাম্মাদির ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বিষয়টিই সামনে এনেছে। তার ডিগবাজি-ভিত্তিক কৌশল বলকে দ্রুত এবং দূরে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

রাশিয়ার ম্যাচে সেই কৌশলের ফলও এসেছে গোলের মাধ্যমে। ফলে নাদের মোহাম্মাদির থ্রো-ইন আবারও ফুটবলপ্রেমীদের নজরে এসেছে।

নাদের মোহামাদির ডিগবাজি খেয়ে থ্রো-ইন নেওয়ার কৌশল ফুটবলে তার স্বতন্ত্র পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। ২০২০ ও ২০২১ সালের পর এবার রাশিয়ার ক্লাব ফুটবলেও একই কৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছেন।

এসকেএ-খাবারোভস্কের বিপক্ষে স্পার্তাক কোস্ত্রোমার ৩-১ ব্যবধানের জয়ে তার থ্রো-ইন থেকে আমুর কালমিকভের হেডে গোলটি ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্যই আবার সামনে এনেছে ইরানি এই ডিফেন্ডারের অভিনব থ্রো-ইন দক্ষতা।

সর্বাধিক পঠিত