‘নেতানিয়াহু বিশ্ব ইহুদিদের প্রতিনিধি নন’, নিউইয়র্কে বিক্ষোভ, জাতিসংঘ অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও সংঘর্ষ হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের অধিবেশনস্থলের বাইরে ইসরায়েলপন্থী ও ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি হলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় নিউইয়র্কের বাসিন্দা ডেভিড ফেল্ডম্যান নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, তিনি বিশ্বজুড়ে ইহুদিদের বা ইহুদি ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন না।
২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নেতানিয়াহুর নির্ধারিত ভাষণের আগে অধিবেশনস্থলের বাইরে বিভিন্ন পক্ষের বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগানও শোনা যায়।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কেন

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ডেভিড ফেল্ডম্যান এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে ইহুদিদের কিংবা ইহুদি ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন না।
ফেল্ডম্যান অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডের বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করছেন। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুরো ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্য লজ্জাজনক এবং পবিত্র তোরাহ ও ইহুদি ধর্মের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে এগুলো ফেল্ডম্যানের ব্যক্তিগত বক্তব্য ও বিক্ষোভে প্রকাশ করা অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
ধর্মের অপব্যবহারের অভিযোগ
ফেল্ডম্যানের বক্তব্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ধর্মের ব্যবহার উঠে আসে। তাঁর মতে, চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলাই বিক্ষোভের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববাসীর সামনে সংঘাতের বিষয়ে নিজেদের দৃষ্টিতে ‘আসল সত্য’ তুলে ধরতে চান। তাঁর বক্তব্যে ইহুদি ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নিয়েও আপত্তি প্রকাশ করা হয়।
জাতিসংঘ অধিবেশনস্থলের বাইরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই সময় বিশ্বনেতারা বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনের বাইরে নেতানিয়াহুর উপস্থিতির বিরোধিতা করে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ চলাকালে ইসরায়েলপন্থী ও ইসরায়েলবিরোধী পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
উৎস প্রতিবেদনে সংঘর্ষে কতজন আহত হয়েছেন বা কতজনকে আটক করা হয়েছে—এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো সংখ্যা বা তথ্য উল্লেখ করা হচ্ছে না।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের আগে বিক্ষোভ
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষনে ভাষণ দেওয়ার আগে এই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ফলে তাঁর নির্ধারিত বক্তব্যের আগেই নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের আশপাশে প্রতিবাদের পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের এক পক্ষ নেতানিয়াহুর নীতির বিরোধিতা করে অবস্থান নেয়, অন্যদিকে ইসরায়েলপন্থী বিক্ষোভকারীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষের অবস্থান থেকে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেওয়া হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এএনআইয়ের প্রতিবেদনের শিরোনামেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষনের বাইরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে বিক্ষোভ এবং পাল্টা বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেক্ষাপট
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে। এ অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় এবং নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে বিশ্বনেতারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট, শান্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু ও অন্যান্য বৈশ্বিক বিষয়ে আলোচনা করছেন। সাধারণ বিতর্কে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের মধ্যেই নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয় ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও উঠে আসে।
বিক্ষোভে কী বলা হয়েছে
ডেভিড ফেল্ডম্যানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানকে বিশ্বজুড়ে ইহুদি সম্প্রদায় বা ইহুদি ধর্মের সামগ্রিক প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ধর্মকে রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার জন্য ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
ফেল্ডম্যানের মতে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মাধ্যমে এই আপত্তি প্রকাশের পাশাপাশি চলমান সংঘাতে ধর্মের ব্যবহার নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, একই স্থানে ইসরায়েলপন্থী বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ফলে জাতিসংঘ অধিবেশনস্থলের বাইরে দুই পক্ষের অবস্থান ও স্লোগান ঘিরে মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক মঞ্চের বাইরে প্রতিবাদের বার্তা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশ্বনেতাদের জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতামত ও অবস্থান প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ২০২৬ সালের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কেও বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় আলোচনায় রয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে নয়, বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও তাদের অবস্থান প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে।
তবে একই সময়ে ইসরায়েলপন্থী ও ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি দেখিয়েছে যে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ভিন্নমত রয়েছে। উৎস প্রতিবেদনে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সামনে নজর কাড়ল প্রতিবাদ
নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণের আগে নিউইয়র্কে হওয়া এই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে। বিক্ষোভে ডেভিড ফেল্ডম্যানের বক্তব্যে ইহুদি ধর্মের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
উৎস অনুযায়ী, বিক্ষোভের আয়োজক বা অংশগ্রহণকারীদের অন্যতম বক্তব্য ছিল—চলমান সংঘাতে ধর্মকে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং নিজেদের বক্তব্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা।
এদিকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী চলতে থাকে। অধিবেশনস্থলের বাইরে প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিবাদের মধ্যেই বিশ্বনেতারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই প্রতিবেদনে মূলত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত উৎস সংবাদে দেওয়া তথ্য অনুসরণ করা হয়েছে। ডেভিড ফেল্ডম্যানের বক্তব্য তাঁর সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিক্ষোভ, পাল্টা বিক্ষোভ, স্লোগান এবং সংঘর্ষের বিবরণও উৎস প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।





