২০২৬-২৭ থেকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক হবে। জানতে পড়ুন ৭টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা করদাতাদের জন্য জরুরি ও সময় সাশ্রয় করবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হবে। এটি আয়কর রিটার্নের মতোই করদাতাদের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে পেপারভিত্তিক রিটার্নের ঝামেলা কমবে এবং ডিজিটালাইজড সিস্টেমে কাজ আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার করদাতাদের সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে।
কেন অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে?

চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, অনলাইনে রিটার্ন প্রদান না করলে করদাতাদের নানা ধরনের হয়রানি হতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সব রিটার্ন ডিজিটাল মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
“সার্কেল এন্ট্রি ছাড়া পেপার রিটার্ন যারা দিয়েছেন, তাদের এন্ট্রি অনলাইনে দেওয়া হবে। মূল উদ্দেশ্য জনগণের হয়রানি কমানো,” – এনবিআর চেয়ারম্যান।
এটি নিশ্চিত করবে যে, করদাতারা আর ভ্যাট কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবেন না।
অনলাইন ভ্যাট রিফান্ডের সুবিধা
নতুন অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড মডিউল। এর মাধ্যমে করদাতারা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে রিফান্ড আবেদন করতে পারবে।
-
আর ভ্যাট কার্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
-
রিফান্ড আবেদন সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে প্রক্রিয়াজাত হবে।
-
প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হবে।
করদাতাদের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
করদাতাদের প্রয়োজন হবে:
-
ই-ভ্যাট সিস্টেমে নিবন্ধন করা
-
অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রস্তুত রাখা
-
যেকোনো সমস্যা বা প্রশ্নের জন্য সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা
এটি নিশ্চিত করবে যে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের সময় সমস্যা হ্রাস পাবে।
আইনি সংশোধনের সম্ভাবনা
এনবিআর জানিয়েছে, প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনে আইনি সংশোধন করা হতে পারে। এর অর্থ, ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও দ্রুত রিটার্ন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।
“আমরা চাই, এনবিআরের সব কাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হোক,” – এনবিআর চেয়ারম্যান।
নতুন নিয়মের সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ
সুবিধা:
-
সময় সাশ্রয়
-
স্বচ্ছতা বৃদ্ধি
-
কম হয়রানি
চ্যালেঞ্জ:
-
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রেজিস্ট্রেশন সমস্যা
-
কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিজ্ঞতার ঘাটতি
এজন্য করদাতাদের জন্য এনবিআর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করবে।
করদাতাদের করণীয়
নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
-
ই-ভ্যাট সিস্টেমে একাউন্ট খোলা
-
সমস্ত পেপারভিত্তিক রিটার্ন অনলাইনে এন্ট্রি দেওয়া
-
ভ্যাট রিফান্ড বা অন্যান্য আবেদন অনলাইনে দাখিল করা
এটি নিশ্চিত করবে যে সবাই সহজেই নতুন প্রক্রিয়ার সুবিধা নিতে পারবে।
ভবিষ্যতের প্রভাব
নতুন অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফলে:
-
সরকার দ্রুত রিটার্ন ট্র্যাক করতে পারবে
-
করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হবে
-
ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি পাবে
এটি পুরো অর্থনৈতিক সেক্টরে আধুনিকীকরণ আনবে।




