এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
দাম কমার পর দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (27)
বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার : ৩০ লাখ ডলারের বেশি আমদানিতে কড়াকড়ি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
পোলাওয়ের চালের দাম দ্বিগুণ, অথচ কৃষকের ঘরে ধান নেই
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল ৯৯.৯১% কাজ শেষ, তবু ব্যয় বাড়ছে ৯০২ কোটি টাকা

দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না সরকার

দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না সরকার। সিস্টেম লস কমানো ও ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা।

আগামী দুই বছরে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হবে না বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। গত শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশ দেন। সরকারের লক্ষ্য হলো দাম না বাড়িয়ে বিদ্যুৎ খাতের লোকসান কমানো এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ

বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ও কারিগরি পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতের জন্য প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে দেনা সংযোজন হয়েছে।

এ বছরও বিদ্যুৎ খাতের লোকসান সামাল দিতে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে। উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধান থাকায় প্রতিবছর ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি আমদানির বিপরীতে বিপুল দেনা জমেছে, যা শোধ করা জরুরি বলে কর্মকর্তারা জানান।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি না করে সংকট মোকাবিলা

বৈঠকে ভর্তুকি ও লোকসান কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও আসে। তবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এতে সম্মতি দেননি। তাদের মনোভাব স্পষ্ট—দাম বাড়ানো না হলেও কিভাবে বিদ্যুৎ খাতের সংকট মোকাবিলা করা যায়, সেটাই প্রধান লক্ষ্য।

এক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো:

  • সিস্টেম লস (চুরি ও অপচয়) হ্রাস করা

  • অপারেশনাল ব্যয় কমানো

  • ট্যারিফ নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে উৎপাদন পর্যায়ে ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ

  • বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় যৌক্তিককরণ

সিস্টেম লস কমানোর গুরুত্ব

বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সিস্টেম লস হ্রাস একটি প্রধান লক্ষ্য। বৈঠকে জানানো হয়, চুরি ও অপচয় কমানো হলে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

অপারেশনাল ব্যয় সংকোচন

উৎপাদন ও বিতরণ খরচ কমানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ভারসাম্য স্থাপন করা হবে। কর্মকর্তাদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকি কমাতে কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে।

ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ ও যৌক্তিককরণ

ট্যারিফ নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যুতের খরচ পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এটি খাতের লোকসান কমাতে সহায়ক হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় যৌক্তিক করার মাধ্যমে আর্থিক সংকট মোকাবিলা করা হবে।

সরকারের কার্যপরিকল্পনার প্রভাব

দুই বছর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের বোঝা কমানো হবে। অন্যদিকে, খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সিস্টেম লস হ্রাস, ব্যয় সংকোচন এবং ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ভারসাম্য পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত