এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (57)
৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিজিটাল লেনদেনে ‘রেড অ্যালার্ট’
Shikor Web Image (27)
ফের কমল স্বর্ণের দাম: ১৫,৭৪৬ টাকা কমে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা
Shikor Web Image - 2026-01-28T162155.269
ঋণভিত্তিক ব্যয় কোনো আয় তৈরি করতে পারেনি: বললেন বাণিজ্য উপদেষ্টা
Shikor Web Image - 2026-01-28T161305.446
১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনবে সরকার
Shikor Web Image - 2026-01-28T160330.637
সোনার দাম রেকর্ড: আজ থেকেই কার্যকর প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পারফরম্যান্স: আশ্চর্যজনক বৃদ্ধি

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পারফরম্যান্সে সাম্প্রতিক উত্থান

মাসের পর মাস প্রত্যাশার তুলনায় কম পারফরম্যান্সের পর পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পারফরম্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক উন্নতি দেখাচ্ছে। আগামী বছরের জুন নাগাদ টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের এই নতুন কনটেইনার হাব দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি আমদানি স্ক্যানার গত মে মাসে টার্মিনালে স্থাপন করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর ব্যর্থতার পর সৌদি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই) নিজের অর্থায়নে ৩০ লাখ মার্কিন ডলারে স্ক্যানার আনে। এটি টার্মিনালের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া, গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জামও পর্যায়ক্রমে আনা হচ্ছে।


মাসিক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি

মে পর্যন্ত টার্মিনালটি শুধুমাত্র রপ্তানি কনটেইনার পরিচালনা করতে পারত। কিন্তু মে থেকে অক্টোবর—এই পাঁচ মাসে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ১ লাখ ৮,২২৮ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডল করেছে। এটি প্রথম ১৬ মাসের মোট কার্গোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান।

মাসওয়ারি কার্গো হ্যান্ডলিংও স্থিরভাবে বেড়েছে:

  • মে: ১৩,৩১৪ টিইইউএস

  • জুন: ১৪,৫২৭ টিইইউএস

  • জুলাই: ১৫,৩৯৬ টিইইউএস

  • আগস্ট: ২২,৬৩৬ টিইইউএস (সর্বোচ্চ)

  • সেপ্টেম্বর: ১৭,৩৩৭ টিইইউএস

  • অক্টোবর: ২৫,০১৮ টিইইউএস (নতুন রেকর্ড)

সাধারণত, এই ধরণের ধারাবাহিক বৃদ্ধি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পারফরম্যান্সকে দেশের রপ্তানি-আমদানি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রদান করছে।

জাহাজ আগমন এবং অপারেশন দক্ষতা

চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত, টার্মিনালে জাহাজ আগমনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু আগস্ট মাসেই সাতটি জাহাজ ভিড়েছে। প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি কনটেইনারের পরিমাণ ৫৩,৩৩২ টিইইউএস, যেখানে আমদানি কার্গো ৫৪,৮৯৬ টিইইউএস।

আরএসজিটিআই জানায়, ধীরে ধীরে কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে চলমান সরঞ্জাম স্থাপন এবং কনসেশন চুক্তির দুই বছরের উন্নয়ন পর্যায়ের অংশ হিসেবে। ইতোমধ্যে ১৪টি রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন এসে পৌঁছেছে, যার মধ্যে চারটি কমিশনিং সম্পন্ন। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে চারটি শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন চালু হবে।

বর্তমান সক্ষমতা এবং সীমাবদ্ধতা

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে, তবুও টার্মিনাল এখনও নকশাগত সক্ষমতার নিচে কাজ করছে। আগস্টে সর্বোচ্চ কার্যক্রমে টার্মিনাল মাসিক ৪১,৭০০ টিইইউএস সক্ষমতার মাত্র ৫৪% ব্যবহার করতে পেরেছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এটি যথাক্রমে ৪২% এবং ৪৯%।

আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো শিপিং লাইনগুলো এখনও নিয়মিত জাহাজ শিডিউল করছে না। তবে অপারেটররা জানাচ্ছেন, এটি প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাভাবিক।


স্ক্যানার ও নতুন সরঞ্জামের গুরুত্ব

সেপ্টেম্বর মাসের হ্যান্ডলিং কম হওয়ার মূল কারণ ছিল আমদানি কার্যক্রমের জন্য স্ক্যানারের অভাব। আরেফ সরওয়ার, চট্টগ্রামের কমার্শিয়াল ও পাবলিক অ্যাফেয়ার্স প্রধান, বলেন:

“স্ক্যানার না থাকায় আমদানি কার্যক্রম শুরু করতে পারিনি। নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপন করার পর মে মাস থেকে হ্যান্ডলিংয়ের গতি বেড়েছে।”

এছাড়া, লেস দ্যান কনটেইনার লোড (এলসিএল) এবং সীমিত স্টোরেজ সুবিধা শুরুর দিকে সমস্যার সৃষ্টি করেছিল। সম্প্রতি ১০০ টিইইউএস সক্ষমতার শেডকে ৩০০ টিইইউএসে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতের প্রত্যাশা

২০২৬ সালের জুনে টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপও কমবে। অর্থনীতিবিদ মইনুল ইসলাম বলেন:

“এটি একটি আশাব্যঞ্জক প্রকল্প। পুরো কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়লে দেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

আরেফ সরওয়ার যোগ করেন, লক্ষ্য করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্যক্রম এগোচ্ছে। ২০২৬ সালে ৪.৫ লাখ টিইইউএস পরিচালনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান

তবে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। উদাহরণস্বরূপ, কনটেইনার স্ক্যান করার পর কাস্টমস কর্মকর্তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নিচ্ছেন, যা লিড টাইম বৃদ্ধি করছে।

অপারেটররা আশা করছেন, সব নতুন সরঞ্জাম স্থাপনের পর এই বাধাগুলো দূর হবে।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পারফরম্যান্স সাম্প্রতিক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করেছে। নতুন স্ক্যানার, আধুনিক ক্রেন এবং স্থাপনা সম্প্রসারণের ফলে কার্যক্রম দ্রুত হচ্ছে। যদিও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, ২০২৬ সালের মধ্যভাগে টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি দেশের রপ্তানি ও আমদানি ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করবে।

সর্বাধিক পঠিত