পিলখানা হত্যাকাণ্ড শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বনানীর কবরস্থানে ৭৪ শহীদ সেনার প্রতি গুরুত্বপূর্ণ শ্রদ্ধা জানালেন।
বনানীর সামরিক কবরস্থানে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পিলখানা হত্যাকাণ্ড শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তারা বীর শহীদ সেনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। এই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং মোট ৭৪ জন নিহত হন। হত্যাকাণ্ডটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে একটি নাটকীয় ও মর্মস্পর্শী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
২০২৪ সালের পর থেকে প্রতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। এই দিবসটি শহীদ সেনাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

পিলখানা হত্যাকাণ্ড শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, “শহীদ সেনাদের ত্যাগ এবং আত্মত্যাগ আমাদের জন্য চিরস্মরণীয়। তাদের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব।” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই উপলক্ষে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অন্যান্য উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা বনানীর কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান নিবেদন করেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড শহীদদের শ্রদ্ধা: শিক্ষা ও বার্তা
পিলখানা হত্যাকাণ্ড শহীদদের শ্রদ্ধা শুধুমাত্র ইতিহাসের স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সতর্কবার্তা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য উদাহরণ। নিহত সেনাদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় সংহতি ও শৃঙ্খলার মূলে অবিচল ভূমিকা পালন করেছে।
শহীদ সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। পিলখানা হত্যাকাণ্ড শহীদদের শ্রদ্ধা দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এক ঐতিহাসিক ও শিক্ষণীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।




