এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (27)
বিজিবির নতুন ৩০২৩ সদস্য শপথ: নিলেন দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার
Shikor Web Image (24)
বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ ভোট সিদ্ধান্ত: নজরুল ইসলাম খান
Shikor Web Image (23)
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য: দায়িত্বে থাকবে বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (8)
১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা: জামায়াত লড়বে কত আসনে?
Shikor Web Image (5)
কত আসনে লড়বে এনসিপি

জনগণের আস্থা তৈরি করার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই: আমীর খসরু

 জনগণের আস্থা তৈরি করার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই—আমীর খসরু। জবাবদিহি ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই নয় বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।

 জনগণের আস্থা তৈরি করার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই বলেছেন আমীর খসরু বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজনীতিবিদদের জনগণের আস্থা আজ একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন, গণতন্ত্র এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে জনমনে অনাস্থা তৈরি হয়েছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এই বাস্তবতা সামনে রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, জনগণের আস্থা তৈরি করার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলানগরে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় নির্বাচন–২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এই সংলাপে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ এবং নাগরিক প্রত্যাশা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

রাজনীতিবিদদের জনগণের আস্থা সংকট কেন গভীর হচ্ছে

আমীর খসরু বলেন, রাজনীতির ওপর জনগণের আস্থা কম—এটি একটি বাস্তব সত্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং জবাবদিহির অভাব জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়িয়েছে।

তার মতে, রাজনীতিবিদদের জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথম শর্ত হলো জবাবদিহি নিশ্চিত করা। রাজনীতিবিদরা যদি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ না হন, তাহলে গণতন্ত্র শুধু নামেই থাকবে, বাস্তবে নয়।

জবাবদিহি ছাড়া সংস্কার সম্ভব নয়

আমীর খসরু স্পষ্ট করে বলেন,

“আগামীর বাংলাদেশে যারা জবাবদিহি ও জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারবেন না, তাদের কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ থাকবে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে আলাদা করে সংস্কারের কথা বলতে হবে না। সংস্কার তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাস্তবায়িত হবে। এই বক্তব্যে রাজনৈতিক সংস্কারের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিবিদদের জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

গণতান্ত্রিক পরিবেশে সুশীল সমাজের ভূমিকা

সংলাপে আমীর খসরু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সুশীল সমাজের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, সুশীল সমাজকে কাজ করতে না দিলে স্বৈরাচারের জন্ম হয়। গণতন্ত্র কখনো একক কোনো শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।

তার ভাষায়, কোনো সরকার একা সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। বাস্তবায়নের জন্য অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। এই অংশীদারিত্বে থাকতে হবে বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ, এনজিও এবং সাধারণ জনগণকে।

ক্ষমতায় গেলে বিএনপির অবস্থান কী হবে

আমীর খসরু বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং অংশীদারিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা অনুসরণ করবে। বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ ও এনজিওদের সঙ্গে নিয়েই সমস্যার সমাধান করা হবে।

এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, রাজনীতিবিদদের জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য বিএনপি ভবিষ্যতে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির কথা বলছে। এটি নাগরিক প্রত্যাশার সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ এবং নাগরিক প্রত্যাশা

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে নানা প্রত্যাশা রয়েছে। স্বচ্ছ নির্বাচন, নিরপেক্ষ প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা—এই তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

আমীর খসরুর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন শুধু একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। যদি এই প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা না থাকে, তাহলে নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়ে।

রাজনীতিবিদদের জনগণের আস্থা ফিরবে কীভাবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, আস্থা ফেরাতে কয়েকটি বিষয় জরুরি—

  • স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন

  • রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে জবাবদিহি

  • মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

  • সুশীল সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ

  • রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা

এই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজনীতিবিদদের জনগণের আস্থা। এটি ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র কল্পনা করা যায় না।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গণতন্ত্র

গণতন্ত্র ও জবাবদিহি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একই ধরনের মত পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে জাতিসংঘের গণতন্ত্র ও সুশাসন বিষয়ক নীতিমালায় বলা হয়েছে, জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকতে পারে না।
এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়া যেতে পারে United Nations Democracy principles–এ (external authoritative source)।

আমীর খসরুর বক্তব্য ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। জনগণ আর কেবল প্রতিশ্রুতি শুনে সন্তুষ্ট থাকবে না। তারা বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং অংশগ্রহণ—এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনের রাজনীতির মূল ভিত্তি হবে।

যে রাজনৈতিক শক্তি এই বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হবে, তাদের জন্য রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণেই রাজনীতিবিদদের জনগণের আস্থা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

সর্বাধিক পঠিত