সৌদি প্রবাসীর লাগেজ কাটাছেঁড়া: যা জানা গেল পুরো ঘটনায়
সৌদি প্রবাসীর লাগেজ কাটাছেঁড়া—এই শব্দগুচ্ছটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল আলোচিত। সৌদি আরব থেকে ফেরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীর লাগেজ কেটে মালামাল চুরি হওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ছেঁড়া লাগেজ নিয়ে একাধিক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করছেন।
তবে এই সৌদি প্রবাসীর লাগেজ কাটাছেঁড়া ঘটনার মূল কারণ নিয়ে শুরুতে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। বিষয়টি ঢাকায় না কি বিদেশে ঘটেছে—তা জানতে মুখ খুলেছেন বিমানবন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তা।
ভাইরাল ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একাধিক প্রবাসীর লাগেজ কাটা অবস্থায় রয়েছে। লাগেজের ভেতরের মূল্যবান মালামাল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই সৌদি প্রবাসীর লাগেজ কাটাছেঁড়া বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে—এটি কি ঢাকার বিমানবন্দরে ঘটেছে, নাকি বিদেশে?
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক কী বললেন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ রোববার (৩০ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে জানান,
সৌদি প্রবাসীর লাগেজ কাটাছেঁড়া ঢাকায় নয়, ঘটেছে জেদ্দা এয়ারপোর্টে।
তিনি বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঢাকায় লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ের সময় এমন কোনো কাটাছেঁড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কোথায় ঘটেছে সৌদি প্রবাসীর লাগেজ কাটাছেঁড়া
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সৌদি প্রবাসীর লাগেজ কাটাছেঁড়া ঘটেছে জেদ্দা এয়ারপোর্ট-এ। বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগেই লাগেজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
এ তথ্য জানার পর অনেক যাত্রীর মধ্যেই কিছুটা স্বস্তি এসেছে, কারণ এতে দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভুল ধারণা দূর হয়েছে।
১৪ নভেম্বরের সেই ফ্লাইটে কী ঘটেছিল
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ঘটনাটি ঘটে গত ১৪ নভেম্বর।
সেদিন সৌদি আরব থেকে ৭৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আউট পাস নিয়ে Ethiopian Airlines-এর একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন।
ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা আগমনী টার্মিনালের ১ নম্বর বেল্টে লাগেজ সংগ্রহ করতে যান। তখনই দেখা যায়—
-
অধিকাংশ ব্যাগ কাটা
-
লাগেজের ভিতরের মালামাল নিখোঁজ
-
মূল্যবান সামগ্রী চুরি
এতেই যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে ওঠে।
যাত্রীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণ
লাগেজ কাটার এমন অভিজ্ঞতা একজন প্রবাসীর জন্য মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, তারা প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থে কেনা উপহার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ফিরছিলেন।
এই সৌদি প্রবাসীর লাগেজ কাটাছেঁড়া ঘটনায়—
-
যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি
-
ক্ষতিপূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
-
কার দায়ে ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেই মুহূর্তেই ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কি?
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক জানিয়েছেন, ঘটনা সৌদি কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,
“সৌদি কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করলে খোয়া যাওয়া মালামাল ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত চলবে।
প্রবাসীদের জন্য করণীয় ও সতর্কতা
এই সৌদি প্রবাসীর লাগেজ কাটাছেঁড়া ঘটনা থেকে যেসব বিষয় শেখার আছে—
-
লাগেজে তালা ও র্যাপ ব্যবহার করুন
-
লাগেজে অত্যাবশ্যক কাগজপত্র না রাখা
-
বিমানে ওঠার আগে ব্যাগের ছবি তুলে রাখা
-
লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে লিখিত অভিযোগ দেওয়া
-
এয়ারলাইন্সের লাগেজ ক্লেইম ডেস্কে রিপোর্ট করা
এতে ভবিষ্যতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
সবশেষে বলা যায়, সৌদি প্রবাসীর লাগেজ কাটাছেঁড়া ঘটনাটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটি ঢাকার নয়, বরং জেদ্দা এয়ারপোর্টে ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
এখন প্রবাসীরা আশা করছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা ন্যায়বিচার পাবেন। প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সময়ের দাবি।




