শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল চালু হচ্ছে না অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে। নতুন অধ্যাদেশে বিমান টিকিট প্রতারণা বন্ধ ও যাত্রী হয়রানি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল চালু—এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রী ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। তবে অবশেষে এ বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রত্যাশিত থার্ড টার্মিনাল চালু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আহমেদ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। ওইদিন বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি উপলক্ষে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এই ঘোষণার পর শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল চালু বিষয়টি আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
কেন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল চালু হচ্ছে না
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি থাকলেও এটি চালুর জন্য যেসব কারিগরি, প্রশাসনিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ প্রয়োজন, তা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
তার মতে, একটি আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল চালু করতে শুধু অবকাঠামো নয়, দক্ষ জনবল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এভিয়েশন সেফটি সার্টিফিকেশন এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি প্রয়োজন।
এই বাস্তবতার কারণে সরকার আপাতত থার্ড টার্মিনাল চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিমান টিকিট প্রতারণা বন্ধে নতুন অধ্যাদেশের বড় ভূমিকা
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা আরও জানান, সদ্য জারি করা অধ্যাদেশ দুটি বাস্তবায়িত হলে বিমান টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রতারণা ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ হবে।
তিনি বলেন—
-
অসাধু ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল
-
অতিরিক্ত দাম আদায় ও ভুয়া বুকিংয়ের অভিযোগ ছিল
-
প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন
নতুন অধ্যাদেশে এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এর ফলে শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল চালু না হলেও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে তাৎক্ষণিক সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল চালু না হলেও যাত্রীসেবায় কী পরিবর্তন আসছে
যদিও থার্ড টার্মিনাল চালু হচ্ছে না, তবে বর্তমান টার্মিনাল ব্যবস্থাপনাতেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
-
টিকিটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা
-
যাত্রী হয়রানি কমানো
-
লাইসেন্সবিহীন ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
-
অনলাইন টিকিট বুকিংয়ে স্বচ্ছতা
এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
কুয়াশায় ফ্লাইট ডাইভারশন ঠেকাতে কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন
সংবাদ সম্মেলনে বিমানের ডাইভারশন প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়।
উপদেষ্টা জানান, তীব্র কুয়াশার সময় ফ্লাইট পাশের দেশে ডাইভার্ট হওয়ার ঘটনা এড়াতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ক্যাটাগরি থ্রি–তে উন্নীত করা হবে।
এর ফলে—
-
খারাপ আবহাওয়ায় দেশেই নিরাপদ ল্যান্ডিং সম্ভব হবে
-
যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে
-
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়বে
এই সিদ্ধান্ত শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল চালু না হলেও বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে বিমান পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আসবে
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান বলেন, নতুন অধ্যাদেশ দুটি কার্যকর হলে বিমান পরিবহন ও ট্রাভেল ব্যবসায় শৃঙ্খলা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে।
তার ভাষায়—
-
টিকিটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে
-
যাত্রী অধিকার সংরক্ষিত হবে
-
অভিবাসী কর্মীরা নিরাপদ সেবা পাবেন
-
পর্যটন খাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় থাকবে
এই সংস্কারগুলো দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিমান খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।
আন্তর্জাতিক মান ও যাত্রী অধিকার নিশ্চিতের উদ্যোগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, থার্ড টার্মিনাল চালু বিলম্বিত হলেও সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
যদিও এই মুহূর্তে শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল চালু হচ্ছে না, তবুও সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে—বিমান খাতের সংস্কার এখন অগ্রাধিকার।
নিয়ন্ত্রিত টিকিট বাজার, যাত্রী অধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে থার্ড টার্মিনাল চালু হলে তা আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।
Shikor TV Canada বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নতুন কোনো অগ্রগতি হলে পাঠকদের সর্বশেষ তথ্য জানাতে থাকবে।




