থার্ড টার্মিনাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়েছে বিডা। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে, কী হতে পারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানুন।
বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে নতুন করে অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রকল্পের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে সামনের কার্যক্রম নির্ধারণ করবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্প নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
বৈঠকের পর যা জানালেন বিডা চেয়ারম্যান

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, জটিলতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী বলেন, তারা কেবল প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং এখন সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা আজকে শুধু প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। তিনি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলোর ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এ সময় তিনি আরও জানান, আগামীকাল জাপানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পুনরায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পরবর্তী অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।
শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল নির্দেশনা ও সম্ভাব্য অগ্রগতি
দীর্ঘ ছয় বছরের জট
এই প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় আটকে রয়েছে। বিডা চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, এটি প্রায় ছয় বছর পুরোনো একটি বিষয়। ফলে এর পেছনে নীতিগত, প্রশাসনিক এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
তিনি বলেন, বিমান মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন সমস্যাগুলো নতুন করে বোঝার চেষ্টা করছে।
এই প্রেক্ষাপটে শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জট কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পের গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক গেটওয়ে। যাত্রী ও কার্গো সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে যাত্রীসেবা, কার্গো সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের বিমান পরিচালনা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ প্রকল্পে জাপানের সম্পৃক্ততা থাকায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই জাপানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পুনরায় বৈঠকের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন মন্ত্রীর আগমন: পরিবর্তনের সম্ভাবনা
বিমান মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পের অগ্রগতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আশিক চৌধুরী বলেন, নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিষয়টি বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিষয়গুলো পুনর্মূল্যায়নের ফলে সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
এই অবস্থায় শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল নির্দেশনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম দ্রুত এগোলে দেশের বিমান খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
নতুন টেন্ডার হবে কি?
টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হবে কিনা—এই প্রশ্নও উঠে আসে।
এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি বিডা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এটি একটি সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) বিষয়। ফলে এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এ বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সিদ্ধান্তটি কূটনৈতিক এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।
আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিমানবন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পর্যটন, প্রবাসী কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আধুনিক বিমানবন্দর বড় ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ইমেজও উন্নত হবে।
বিশ্বব্যাপী বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও। উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে BBC-এর প্রতিবেদনসমূহে, যেখানে বিমানবন্দর উন্নয়ন ও অর্থনীতির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়।
কী বলছে সংশ্লিষ্ট মহল
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই প্রকল্পে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের কারণে অগ্রগতি আসতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা জরুরি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা
আগামী দিনগুলোতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সামনে রয়েছে—
-
আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা
-
নীতিগত সিদ্ধান্ত
-
পরিচালনা কাঠামো নির্ধারণ
-
প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন
এই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হলে বিমান খাতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বাংলাদেশের বিমান অবকাঠামো উন্নয়নে তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হওয়ায় দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটার আশা তৈরি হয়েছে।
পরবর্তী বৈঠক ও আন্তর্জাতিক আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ। তবে নতুন উদ্যোগ দেশের বিমান খাত এবং অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।




