এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (8)
টেস্ট ক্রিকেটে ‘চা-বিরতি’ শুরু হয়েছিল যেভাবে
News Photocard (16)
মেসির কীর্তি ভেঙে রোনালদোয় চোখ কেইনের
News Photocard (6)
বাংলাদেশ সফরের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, কে আছেন, কে নেই
News Photocard (6)
হামজাকে ছাড়াই সাফ শুরু করবে বাংলাদেশ
News Photocard (3)
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলায় রোনালদোর শ্রদ্ধা

জাহানারার অভিযোগ প্রমাণিত, মঞ্জুরুলকে আজীবন নিষিদ্ধ করলো বিসিবি

জাহানারার অভিযোগ প্রমাণিত, মঞ্জুরুলকে আজীবন নিষিদ্ধ করলো বিসিবি , ২টি যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত, জাতীয় ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক ভার্চুয়াল বোর্ড সভায় জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হওয়া যৌন হয়রানির অভিযোগের পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি করেছিলেন জাতীয় নারী দলের অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলম।

জাহানারা আলমের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মঞ্জুরুল ইসলাম অসদাচরণ ও যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেছেন। বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর বিসিবি উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা দীর্ঘ অনুসন্ধান ও সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে।

দুইটি প্রমাণিত অভিযোগে মঞ্জুরুল ইসলাম নিষিদ্ধ

তদন্ত কমিটি জানায়, জাহানারার আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বোর্ড সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে, মঞ্জুরুল ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং তিনি আর জাতীয় দল, নারী দল বা দেশের কোনো ঘরোয়া ক্রিকেট কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।

বর্তমানে মঞ্জুরুল ইসলাম বিদেশে নারী ক্রিকেট উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত থাকলেও, দেশে ফিরলে বা দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে না। বিসিবি সূত্র জানায়, নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় বোর্ড ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

জাহানারা আলমের পাশে বিসিবি

বিসিবি জানিয়েছে, জাহানারা আলম চাইলে ব্যক্তিগতভাবে আইনি ব্যবস্থা নিতেও পারবেন। সেই ক্ষেত্রে বোর্ড তার পাশে থাকবে। এই পদক্ষেপকে ক্রিকেট অঙ্গনে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে—অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাড় নেই, যত বড় নামই হোক।

মঞ্জুরুল ইসলাম নিষিদ্ধের প্রভাব

মঞ্জুরুল ইসলাম নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের ক্রিকেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নারী ক্রিকেটের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে এটি একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে। দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে এটা স্পষ্ট করছে যে, কোনোভাবে হয়রানি বা অসদাচরণ সহ্য করা হবে না।

বিশ্বস্ত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত জাতীয় ক্রিকেটের নৈতিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, এটি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

অন্য দেশগুলোতে যৌন হয়রানি ও ক্রিকেট

বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের মাঠে যৌন হয়রানির ঘটনা নজরে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াতে বেশ কয়েকজন কোচ এবং নির্বাচককে একই কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাগুলোরও সুপারিশ।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট

বিসিবি আশা করছে, মঞ্জুরুল ইসলাম নিষিদ্ধ হওয়ায় নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা আরও নিরাপদ ও সমর্থ পরিবেশে ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবে।

মঞ্জুরুল ইসলাম নিষিদ্ধ: সমালোচনা ও সমর্থন

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সিদ্ধান্ত কিছু বিতর্কও ডেকে আনতে পারে। তবে, বিসিবি বলেছে যে, দেশের ক্রিকেটে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

এছাড়া, নারী ক্রিকেটারদের সুরক্ষা ও সম্মান রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি চালু করা বোর্ডের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

সর্বশেষে বলা যায়, মঞ্জুরুল ইসলাম নিষিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি প্রমাণ করে যে, বড় নামের ক্রিকেটারও যদি অসদাচরণে লিপ্ত হন, তবে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। নারী ক্রিকেটের নিরাপত্তা এবং নৈতিকতার ক্ষেত্রে এটি একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

সর্বাধিক পঠিত