দেশের বাজারে সোনার ভরি কত টাকা আজ?, সোনার দাম আজ বাংলাদেশ আবার বেড়েছে। ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন দামের বিস্তারিত জানুন এখনই।
দেশের বাজারে সোনার দাম আজ বাংলাদেশ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার কারণে নতুন করে সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। নতুন মূল্য ওই দিন সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে এবং আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত একই দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশের বাজারে সোনার এই নতুন মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ে ও গয়না কেনার মৌসুমে এই মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোনার দাম আজ বাংলাদেশ: নতুন মূল্য তালিকা

বাজুসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ভরিপ্রতি সোনার দামে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেট সোনার নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী—
-
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা
-
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা
-
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা
এই মূল্য তালিকা দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
মূল্য বৃদ্ধির কারণ কী
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় সোনার খুচরা বাজারেও নতুন করে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয়ও এই মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব পড়তে সময় লাগে না। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা থাকায় দেশীয় বাজারেও তা প্রতিফলিত হয়েছে।
ভ্যাট ও মজুরি যোগ করে আরও বাড়বে দাম
বাজুস জানিয়েছে, ঘোষিত মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে। ফলে বাস্তবে গয়না কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।
এই বিষয়টি অনেক ক্রেতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘোষিত দাম ও দোকানে চূড়ান্ত মূল্য প্রায়ই আলাদা হয়ে থাকে।
ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দাম বাড়লে বিয়ে বা উৎসবের কেনাকাটায় মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ বাড়ে। অনেকেই তখন সোনার পরিবর্তে বিকল্প গয়না বেছে নিতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দাম বৃদ্ধি হলেও দীর্ঘমেয়াদে সোনার চাহিদা খুব বেশি কমে না। কারণ এটি শুধু গয়না নয়, বিনিয়োগ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
রুপার দাম অপরিবর্তিত
এদিকে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বাজুস জানিয়েছে, পূর্বের মূল্যই বহাল থাকবে।
বর্তমান রুপার দাম—
-
২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা
-
২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা
-
১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা
রুপার বাজার স্থিতিশীল থাকলেও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে সোনার দামের পরিবর্তন স্থানীয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকলে দাম বাড়ে।
ভবিষ্যতে দাম বাড়বে নাকি কমবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম ভবিষ্যতে ওঠানামা করতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি, ডলার মূল্য, সুদের হার ও বিনিয়োগ প্রবণতার ওপর এই বাজার নির্ভর করে।
যদি আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা আসে, তাহলে স্থানীয় বাজারেও কিছুটা স্থিতি ফিরে আসতে পারে। তবে অনিশ্চয়তা থাকলে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিনিয়োগ হিসেবে সোনা
বাংলাদেশে সোনা শুধু গয়না নয়, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেও জনপ্রিয়। অনেকেই মূল্যস্ফীতির সময় সোনায় বিনিয়োগ করে থাকেন। ফলে দাম বাড়লেও বাজারে এর চাহিদা পুরোপুরি কমে না।
বাজার পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের ভাবনা
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই ছোট পরিমাণে সোনা কিনছেন। আবার কেউ কেউ পুরোনো গয়না বিক্রি করে নতুন কিনছেন। এতে বাজারে লেনদেনের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে।
গয়না ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দাম বাড়লেও বিয়ের মৌসুমে কেনাবেচা পুরোপুরি বন্ধ হয় না। বরং অনেক সময় ক্রেতারা দ্রুত কেনাকাটা শেষ করার চেষ্টা করেন।
সার্বিকভাবে বলা যায়, দেশের বাজারে সোনার দাম আবার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। বাজুসের ঘোষণার ফলে নতুন মূল্য এখন দেশের সব জুয়েলারি দোকানে প্রযোজ্য। আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় চাহিদার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এই মূল্য আবারও পরিবর্তিত হতে পারে।




