সোনার দাম বেড়ে রেকর্ড ছুঁয়েছে দেশে। ভরিতে ৪,২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২২ ক্যারেট সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে আজ থেকে। জানুন বিস্তারিত।
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সোনার দাম বেড়ে রেকর্ড গড়া এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। ভরিতে এক লাফে ৪ হাজার ২০০ টাকা দাম বাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে সোনার মূল্য। এই সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হওয়ায় সাধারণ ক্রেতা, বিনিয়োগকারী এবং জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই মূল্য তালিকা প্রকাশ করে। বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় তেজাবি সোনার (Pure Gold) দাম বৃদ্ধির কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
আজ থেকে কার্যকর নতুন দাম
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ফলে যারা বিয়ে, বিনিয়োগ বা উপহারের জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের ব্যয় বেড়ে গেল উল্লেখযোগ্য হারে।
সোনার দাম বেড়ে রেকর্ড: নতুন মূল্য তালিকা

বাজুস প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেশের বাজারে বর্তমানে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্নরূপ—
-
২২ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ২,৩২,০৫৫ টাকা
-
২১ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ২,২১,৪৯৯ টাকা
-
১৮ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ১,৮৯,৮৯০ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১,৫৬,৮৮১ টাকা
এই দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬% ন্যূনতম মজুরি যুক্ত হবে। গয়নার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরি আরও বাড়তে পারে।
কেন হঠাৎ এত বড় দামে বৃদ্ধি?
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম বেড়ে রেকর্ড হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে।
প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সোনার দামে প্রভাব ফেলছে।
দ্বিতীয়ত, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বেড়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প ছিল না।
তৃতীয়ত, আমদানি ব্যয় ও ডলার সংকটও এই মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্রেতাদের উপর প্রভাব কেমন হবে?
নতুন এই মূল্য তালিকা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে—
-
বিয়ের মৌসুমে গয়না কেনা আরও ব্যয়বহুল হবে
-
মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো কেনাকাটায় পিছিয়ে পড়তে পারে
-
হালকা ও কম ডিজাইনের গয়নার চাহিদা বাড়তে পারে
অনেক ক্রেতাই এখন সোনা কেনা স্থগিত রেখে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
বিনিয়োগ হিসেবে সোনা: লাভ না ঝুঁকি?
দীর্ঘমেয়াদে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়। তবে সোনার দাম বেড়ে রেকর্ড গড়ায় স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা দ্বিধায় পড়েছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন—
-
যারা আগে কম দামে সোনা কিনেছেন, তারা এখন লাভবান
-
নতুন বিনিয়োগকারীদের উচিত ধাপে ধাপে কেনা
-
বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বড় বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে
রুপার দামও বেড়েছে
শুধু সোনা নয়, রুপার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বাজুস ঘোষিত নতুন রুপার দাম—
-
২২ ক্যারেট রুপা: ভরি ৫,৯৪৯ টাকা
-
২১ ক্যারেট রুপা: ভরি ৫,৭১৫ টাকা
-
১৮ ক্যারেট রুপা: ভরি ৪,৮৯৯ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: ভরি ৩,৬৭৪ টাকা
রুপার দাম বৃদ্ধির ফলে রুপার অলংকারের বাজারেও প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের অবস্থান
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়লে বিক্রি সাময়িকভাবে কমে যায়। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজার আবার ভারসাম্যে ফিরে আসে।
একজন ব্যবসায়ী জানান,
“দাম বাড়লে শুরুতে ক্রেতা কমে যায়। কিন্তু বিয়ে বা সামাজিক প্রয়োজনে মানুষ শেষ পর্যন্ত সোনা কিনবেই।”
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে সোনার দামের সঙ্গে বাংলাদেশের বাজার সরাসরি যুক্ত। আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের আপডেট অনুযায়ী, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়লে সোনার চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের অফিসিয়াল সাইটে —
ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়বে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে সামনে আরও দফায় মূল্য সমন্বয় হতে পারে। তবে সরকার বা বাজুস চাইলে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নীতিগত কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ—
-
প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত সোনা কেনা এড়িয়ে চলুন
-
একাধিক দোকানে দাম যাচাই করুন
-
বিল ও ভ্যাট সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করুন




