স্বর্ণের দাম কমেছে—বাজুসের সর্বশেষ সমন্বয়ে ভরিতে ১,০৫০ টাকা কমেছে। জানুন আজকের ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন বাজারদর, ভ্যাট ও মজুরি সহ।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে—বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর সর্বশেষ সমন্বিত দামের প্রভাব মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) থেকেই কার্যকর হয়েছে। বছরের শেষ প্রান্তে এসে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, অভ্যন্তরীণ মূল্যসামঞ্জস্য এবং জুয়েলারি বাজারের চাহিদা-জোগানের ভিত্তিতে নতুন এই মূল্য সমন্বয় গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে।
সবশেষ গত ২ ডিসেম্বর রাতে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, তারা ভরিপ্রতি ১,০৫০ টাকা কমিয়েছে। এর ফলে ক্রেতারা পূর্বের তুলনায় কিছুটা কম দামে স্বর্ণ কিনতে পারছেন। এই নতুন দাম দেশের স্বর্ণবাজারে পুনরায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যখন চলতি বছর ইতোমধ্যে ৮৩ বার দামের সমন্বয় করা হয়েছে।
স্বর্ণের দাম কমেছে—নতুন বাজারদর কত?
বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে স্বর্ণের নতুন দাম হচ্ছে:

| ক্যারেট | নতুন দাম (প্রতি ভরি) |
|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,১১,০৯৫ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,০১,৪৯৬ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৭২,৭০৯ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৪৩,৬৮৯ টাকা |
বাজুস জানায়, স্বর্ণ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকার-নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬% মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে। বিভিন্ন গহনার নকশা ও কারিগরি মান অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতেই পারে।
এই সিদ্ধান্ত দেশের বাজারে সামগ্রিক স্বর্ণের প্রবাহ ও মূল্যস্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
এক সপ্তাহে দু’বার দামে পরিবর্তন—পেছনের কারণ কী?
এটি প্রথম নয়, বরং চলতি বছর স্বর্ণবাজারে অস্বাভাবিক দামের ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ঠিক আগে, ১ ডিসেম্বর বাজুস ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে প্রতি ভরিতে ১,৫৭৫ টাকা বৃদ্ধি করেছিল। তখন নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২,১২,১৪৫ টাকা।
২২ ক্যারেট ছাড়াও তখন—
-
২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২,০২,৪৯৯ টাকা
-
১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১,৭৩,৫৭২ টাকা
-
সনাতন স্বর্ণ বিক্রি হতো ১,৪৪,৪২৪ টাকায়
২ ডিসেম্বর থেকে সেই দাম কার্যকর হলেও, তার মাত্র কয়েকদিন পরই আবার দাম কমিয়ে বাজার স্থিতিশীল করার পদক্ষেপ নেয় বাজুস।
চলতি বছরে ৮৩ বার দামের পরিবর্তন—স্বর্ণবাজার কি অস্থির?
২০২৪ সালে ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩ বার।
এর মধ্যে—
-
৫৬ বার দাম বেড়েছে
-
২৭ বার দাম কমেছে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারের পরিবর্তন, ডলার বিনিময় হার, আমদানি ব্যয়, আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি এবং দেশের মুদ্রাবাজারের প্রভাবের কারণে স্বর্ণের দাম ওঠানামা করা স্বাভাবিক। তবে এত ঘন ঘন দামের পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে।
স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার বাজার স্থির
যেখানে স্বর্ণের দাম কমেছে, সেখানে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। রুপার দাম দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।
➤ দেশে রুপার বর্তমান দাম:
-
২২ ক্যারেট: ৪,২৪৬ টাকা
-
২১ ক্যারেট: ৪,০৪৭ টাকা
-
১৮ ক্যারেট: ৩,৪৭৬ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: ২,৬০১ টাকা
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৯ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে—৬ বার বেড়েছে, ৩ বার কমেছে। গত বছর সমন্বয় হয়েছিল মাত্র ৩ বার।
বিশ্লেষণ: দামের এই পরিবর্তনে লাভবান কারা?
✔ বিনিয়োগকারীরা
স্বর্ণের দাম কমলে অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে এটি সুযোগ হিসেবে দেখা দেয়। তারা কম দামে কিনে ভবিষ্যতের মূল্যবৃদ্ধির দিকে তাকিয়ে থাকে।
✔ গহনা ব্যবসায়ীরা
বাজারের স্থিতিশীলতা তাদের ব্যবসা পরিচালনায় সুবিধা দেয়। ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে।
✔ সাধারণ ক্রেতারা
বিয়ে, উৎসব বা গহনা কেনার পরিকল্পনা যারা করেছেন, তাদের জন্য দামের এই পরিবর্তন ইতিবাচক খবর।
স্বর্ণ কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল করবেন
স্বর্ণ কেনা শুধু শখ নয়, অনেকের কাছে বড় ধরনের বিনিয়োগ। তাই ক্রয়ের সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি—
-
বিশ্বস্ত দোকান থেকে ক্রয় করুন
-
বাজুস অনুমোদিত দাম দেখুন
-
ক্যারেট সঠিক আছে কিনা নিশ্চিত করুন
-
ভ্যাট ও মজুরি সঠিকভাবে যোগ হয়েছে কিনা যাচাই করুন
-
ক্রয় রশিদ নিন
স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সাধারণত নির্ভর করে—
-
মুদ্রাস্ফীতি
-
মার্কিন ডলার সূচক
-
আন্তর্জাতিক সংকট
-
ব্যাংক সুদের হার
-
চাহিদা-জোগান
এগুলোর যেকোনো পরিবর্তন বাংলাদেশের বাজারেও দ্রুত প্রভাব ফেলে।
আজকের স্বর্ণদর কাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
-
গহনা ক্রেতা
-
বিনিয়োগকারী
-
ব্যবসায়ী
-
স্বর্ণকার
-
আমদানিকারক
-
ফাইন্যান্স অ্যানালিস্ট
কারণ স্বর্ণের দাম দেশের মুদ্রাবাজার, আমদানি ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।




