এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (36)
বিশ্বকাপ ট্রফি ঢাকায়: দেখতে মানতে হবে কিছু নির্দেশনা
Shikor Web Image (33)
ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ
Shikor Web Image (17)
বিসিবি-আইসিসি বৈঠক: আইসিসির অনুরোধেও ভারতে বিসিবির ‘না’
Shikor Web Image (62)
আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে বিসিবির সিদ্ধান্ত
Shikor Web Image (60)
বিগ ব্যাশে রিশাদ হোসেন: তার স্পিন জাদুতে হোবার্ট হারিকেন্স প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে

তামিমকে ভারতের দালাল বললেন নাজমুল

তামিমকে ভারতের দালাল বললেন নাজমুল—এই মন্তব্যে তোলপাড় বাংলাদেশ ক্রিকেট। ক্রিকেটারদের প্রতিবাদ, কোয়াবের অবস্থান ও বিসিবির নীরবতা জানুন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট আবারও বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। তামিমকে ভারতের দালাল বললেন নাজমুল—এই এক বাক্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্রিকেটাঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিসিবি পরিচালক ও অর্থ বিভাগের চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামের এমন মন্তব্য অনেকের কাছেই অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে।

বিশেষ করে, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের অন্যতম সফল ক্রিকেটারকে প্রকাশ্যে এমন আখ্যা দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে বিসিবির দায়িত্বশীলতার জায়গা নিয়েও। তামিমকে ভারতের দালাল বললেন নাজমুল—এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত মতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেও নতুন করে আলোচনার মুখে ফেলেছে।

তামিমের বক্তব্য থেকেই শুরু বিতর্ক

ঘটনার সূত্রপাত হয় তামিম ইকবালের এক মন্তব্য থেকে। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ দলের ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না চাওয়ার প্রসঙ্গে তামিম বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চাইলে আরও সময় নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারত। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা ছিল—এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়ো করে নেওয়া ঠিক হয়নি।

কিন্তু এই বক্তব্যকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম লেখেন, তামিম নাকি ভারতের স্বার্থ রক্ষা করছেন। এখানেই প্রথম প্রকাশ্যে আসে বিতর্কিত মন্তব্য—তামিমকে ভারতের দালাল বললেন নাজমুল

অনড় অবস্থানে নাজমুল ইসলাম

প্রবল সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি নাজমুল ইসলাম। ফোনে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য আগেও যা ছিল, এখনো তাই আছে। তাঁর মতে, একটি জাতীয় ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে শুধু অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে ভারতের হয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে।

নাজমুলের ভাষায়, বাংলাদেশ যদি কোনোভাবে বিশ্বকাপ খেলতে না পারে, তাহলে কি শুধুই অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য সিদ্ধান্ত বদলানো উচিত? তিনি এটিকে তাঁর ব্যক্তিগত মত বলে উল্লেখ করলেও বাস্তবে বিষয়টি আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কারণ, তামিমকে ভারতের দালাল বললেন নাজমুল—এই মন্তব্য এসেছে বিসিবির একজন শীর্ষ পরিচালকের কাছ থেকে।

ক্রিকেটারদের বড় অংশের প্রতিবাদ

এই ঘটনায় সবচেয়ে শক্ত প্রতিক্রিয়া এসেছে ক্রিকেটারদের দিক থেকে। সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেটার প্রকাশ্যে নাজমুল ইসলামের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্টে তাঁরা জানিয়েছেন, একজন দায়িত্বশীল বোর্ড পরিচালক এভাবে একজন সাবেক অধিনায়ককে আক্রমণ করতে পারেন না।

ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন) বিবৃতি দিয়ে এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। শুধু বিবৃতি নয়, সিলেটের একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনও করে সংগঠনটি।

টেস্ট অধিনায়ক শান্তর কড়া প্রশ্ন

টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এই বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেন। ম্যাচ শেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন—বিসিবির দায়িত্বশীল পদে বসে কেউ কীভাবে একজন সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন?

শান্ত বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তামিম শুধু সাবেক অধিনায়কই নন, তিনি বাংলাদেশের অন্যতম সফল ক্রিকেটার। সবাই সম্মান প্রত্যাশা করে, বিশেষ করে বোর্ডের কাছ থেকে। তাঁর মতে, বিসিবি ক্রিকেটারদের অভিভাবক; সেখান থেকেই এমন মন্তব্য আসা মেনে নেওয়া কঠিন।

কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনে যা বলা হলো

কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, সাইফ হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মমিনুল হক, সাব্বির রহমান ও শামীম হোসেন।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, দায়িত্বশীল জায়গায় থাকা ব্যক্তিদের অবশ্যই আচরণবিধি মেনে চলা উচিত। সাধারণ মানুষ হিসেবে যেকোনো মত দেওয়া যায়, কিন্তু বোর্ডের দায়িত্বে থাকলে জবাবদিহি থাকে। তাঁর কথায়, চাইলেই সব কিছু বলা যায় না।

এখানেই আবার নতুন করে সামনে আসে বিষয়টি—তামিমকে ভারতের দালাল বললেন নাজমুল—এই মন্তব্য কি আদৌ দায়িত্বশীলতার মধ্যে পড়ে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

এই ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম, সাইফউদ্দিন ও মমিনুল হকসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার সরাসরি নাজমুল ইসলামের বক্তব্যের নিন্দা জানান।

ভক্তদের বড় একটি অংশও মনে করছেন, মতের অমিল থাকতেই পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা এমন শব্দচয়ন দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়।

বিসিবির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বিসিবির ভূমিকা। এত বড় বিতর্কের পরও বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অবস্থান নেয়নি। জানা গেছে, নাজমুল ইসলাম কিংবা যেসব ক্রিকেটার প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন—কাউকেই কোনো নোটিশ পাঠানো হয়নি। এমনকি কারণ দর্শানোর চিঠিও দেওয়া হয়নি।

এই নীরবতা থেকেই অনেকের প্রশ্ন—বিসিবি কি ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে? নাকি অভ্যন্তরীণভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে? যাই হোক, তামিমকে ভারতের দালাল বললেন নাজমুল—এই মন্তব্য বিসিবির ভাবমূর্তিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।

এই বিতর্ক শুধু একজন ক্রিকেটার বা একজন বোর্ড পরিচালকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি, পারস্পরিক সম্মান এবং প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের বিষয়। একজন সাবেক অধিনায়ককে প্রকাশ্যে এমনভাবে আখ্যা দেওয়ার পরও যদি কোনো জবাবদিহি না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে—এই আশঙ্কাও করছেন অনেকে।

সর্বাধিক পঠিত