তারেক রহমানকে সম্পাদকদের পরামর্শ ঘিরে উঠে এলো ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ।
তারেক রহমানকে সম্পাদকদের পরামর্শ দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সক্রিয় উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শনিবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে জাতীয় পর্যায়ের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠানে উঠে আসে স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণতন্ত্র, রাষ্ট্র সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা।
এই বৈঠককে অনেকেই দেখছেন একটি যুগসন্ধিক্ষণের মুহূর্ত হিসেবে। কারণ, দীর্ঘ সময় পর রাজনীতিতে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মিডিয়ার ভূমিকা
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেন, “আমরা একটি সাংবাদিকবান্ধব প্রশাসন চাই। কিন্তু গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা মিডিয়া ট্রায়াল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশনের চরম অপকর্ষ প্রত্যক্ষ করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “মশা আইন–এর মতো ঘটনা এবং গোয়েন্দা শাসিত মিডিয়া আমাদের সমাজকে ন্যাক্কারজনকভাবে প্রভাবিত করেছে। আমরা চাই, এই ইতিহাস আর পুনরাবৃত্তি হোক না। সত্যিকারের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরুক।”

এই আলোচনায় তারেক রহমান দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আশ্বাস দেন।
দেশের অগ্রগতি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
দৈনিক মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, “মিডিয়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছুটা স্বাধীন, কিন্তু মব ভায়োলেন্স এবং হুমকির কারণে আমাদের সাহস সীমিত। দেশের অগ্রগতি ও গণতন্ত্র রক্ষায় এখন তারেক রহমান ছাড়া বিকল্প নেই।”
মতিউর রহমান আরও বলেন, “ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন। দলকে একটি সঠিক, সম্মিলিত পথে পরিচালিত করতে হবে, নাহলে অতীতের মতো ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে।”
ক্লাইমেট চেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, “আমরা গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সুশাসন চাই। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্লাইমেট চেঞ্জ, যা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো এ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা করছে না।
ইতিহাস ও তথ্যের স্বচ্ছতা
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, “তারেক রহমান দেশে ১৭ বছর ছিলেন না। তিনি যেটা শুনেছেন, সেটা পুরো বাংলাদেশের ইতিহাস নয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের অনুষ্ঠানে সঠিক তথ্যভিত্তিক ইতিহাস উপস্থাপন করা জরুরি।”
নিউজ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের সময় আমরা রাজনীতির নানা প্রবণতা দেখেছি। গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা অপরিহার্য। গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হাত ধরাধরি করে চলতে হবে।”
সমন্বিত পরামর্শের সারমর্ম
এই অনুষ্ঠানে সম্পাদকরা তারেক রহমানকে যে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন তা সংক্ষেপে বলা যায়:
-
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
-
গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করা।
-
মিডিয়ার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা।
-
দেশের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা।
-
ক্লাইমেট চেঞ্জ এবং পরিবেশগত ঝুঁকির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।
-
ইতিহাস ও তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
-
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দৃঢ় করা।
এই পরামর্শগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ একটি নতুন অগ্রগতিশীল যুগের দিকে এগোতে পারবে।
দেশের ভবিষ্যৎ ও সম্পাদকদের প্রত্যাশা
সব মিলিয়ে দেখা যায়, তারেক রহমান দেশে ফিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা নিয়ে এসেছেন। সম্পাদকরা আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবাদিকিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন। এই মুহূর্তে মিডিয়া, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের জন্য প্রয়োজন।




