এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image - 2026-03-02T154943.068
জ্বালানি খাতে অশনিসংকেত
Shikor Web Image - 2026-03-01T151104.936
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে যে প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে
Shikor Web Image (20)
ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা
Shikor Web Image (17)
দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না সরকার
Shikor Web Image (82)
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা গুটিয়ে নেব: ডিসিসিআই

রোজায় ট্রাকসেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি

রোজায় ট্রাকসেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি, পবিত্র মাসে টিসিবি ট্রাকসেল রমজান কর্মসূচিতে ৩০–৩৫ লাখ ভোক্তার জন্য তেল, ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর বিক্রি হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় স্বস্তি।

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সারা দেশে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি টিসিবি ট্রাকসেল রমজান কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ বাজারের চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

রমজান সামনে রেখে টিসিবির বিশেষ উদ্যোগ

রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি একটি পরিচিত বাস্তবতা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় কঠিন হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে টিসিবি জানিয়েছে, তাদের নিয়মিত ভর্তুকি কার্যক্রমের পাশাপাশি অতিরিক্ত ট্রাকসেলের মাধ্যমে সারা দেশে পণ্য সরবরাহ করা হবে।

সংস্থাটির মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো খাদ্যপণ্যের সরবরাহ বাড়িয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প নিশ্চিত করা।

বর্তমানে স্মার্ট কার্ডধারীদের মাধ্যমে ভর্তুকি পণ্য বিক্রি চললেও ট্রাকসেল কর্মসূচির আওতায় আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠী সুবিধা পাবেন। এতে শহর ও জেলা পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ উপকৃত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টিসিবি ট্রাকসেল রমজান: কোন পণ্য মিলবে

টিসিবি জানিয়েছে, রমজান মাসে নিয়মিত বিক্রির পণ্য হিসেবে থাকবে—

  • ভোজ্যতেল

  • ডাল

  • চিনি

এর পাশাপাশি রমজানের বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য যুক্ত করা হয়েছে—

  • ছোলা

  • খেজুর

এই দুই পণ্য রমজানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, রোজার সময় ইফতারি সামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধি পায়, ফলে এসব পণ্য ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

পণ্যের পরিমাণ ও মূল্য পরে জানানো হবে

যদিও ট্রাকসেলের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া পণ্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তবে নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য এখনো ঘোষণা করা হয়নি। টিসিবি জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সাধারণত টিসিবি বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে পণ্য বিক্রি করে থাকে। ফলে মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে ভোক্তাদের আগ্রহ রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল্য নির্ধারণ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

রমজান শুরুর আগেই কার্যক্রম শুরু

টিসিবি জানিয়েছে, রমজান মাস শুরুর আগের দিন থেকেই ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এতে করে মাসের শুরু থেকেই ভোক্তারা এই সুবিধা পাবেন।

এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রমজানের প্রথম সপ্তাহে পণ্যের চাহিদা বেশি থাকায় এই সময় ট্রাকসেল কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য বড় সহায়তা

টিসিবির এই উদ্যোগকে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব পণ্য বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে পাওয়া যায়, যা সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বড় স্বস্তি হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি এই ধরনের ভর্তুকি কার্যক্রম খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, (placeholder) ধরনের উদ্যোগ অনেক দেশেই পরিচালিত হয়।

বাজারে প্রভাব ও সম্ভাবনা

এই কর্মসূচির ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়লে মূল্য বৃদ্ধির চাপ কমতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভর্তুকি পণ্য সরবরাহ শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করে না, বরং বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করে। এর ফলে বেসরকারি ব্যবসায়ীরাও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাধ্য হন।

স্মার্ট কার্ড কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয়

বর্তমানে টিসিবি স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিবারকে ভর্তুকি পণ্য সরবরাহ করছে। ট্রাকসেল কার্যক্রম সেই ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

এতে করে যেসব মানুষ স্মার্ট কার্ড সুবিধার বাইরে রয়েছেন, তারাও সীমিত পরিসরে পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাবেন। ফলে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতা আরও বিস্তৃত হবে।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাকসেলের পাশাপাশি সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা এবং বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি। এতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি নীতি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সমন্বয় প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত