এবার মার্কিন পাসপোর্টে দেখা যাবে ট্রাম্পকে, ট্রাম্প স্মারক পাসপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের 250তম স্বাধীনতা উদযাপনে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত সীমিত সংস্করণ হিসেবে আসছে, জানাল পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন নকশা প্রকাশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে সীমিত সংখ্যক ট্রাম্প স্মারক পাসপোর্ট চালুর ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই বিশেষ উদ্যোগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত স্মারক পাসপোর্ট তৈরি করা হবে বলে মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে সাধারণ নাগরিকরা এই ট্রাম্প স্মারক পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এই উদ্যোগকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রশাসনের প্রতীকী নীতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের রাষ্ট্রীয় নথিতে যুক্ত করার প্রবণতা।
২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপন ও ট্রাম্প স্মারক পাসপোর্ট উদ্যোগ
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন স্মারক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই তৈরি হচ্ছে এই ট্রাম্প স্মারক পাসপোর্ট সংস্করণ।
তবে বিবৃতিতে সরাসরি ট্রাম্পের ছবি থাকবে কি না—এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। যদিও পরবর্তীতে প্রকাশিত নকশায় বিষয়টি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে।
ট্রাম্প স্মারক পাসপোর্ট নকশায় কী থাকছে?

সরকারি নকশা অনুযায়ী, পাসপোর্টের ভেতরের একটি পৃষ্ঠায় ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ছবির বিপরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রাখা হয়েছে।
এই ডিজাইন ইতোমধ্যে বিতর্ক ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কারণ ঐতিহাসিক স্বাধীনতা দলিলের পাশে একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের ছবি যুক্ত করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন।
এই পুরো উদ্যোগের মূল অংশ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে ট্রাম্প স্মারক পাসপোর্ট, যা স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে স্মারক সংস্করণ হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত ফি ছাড়াই দেওয়া হতে পারে সীমিত সংস্করণ
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সীমিত সংখ্যক স্মারক পাসপোর্টের জন্য কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না। তবে এটি সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই অনিশ্চয়তা ট্রাম্প স্মারক পাসপোর্ট ঘিরে জনমনে কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে।
স্বর্ণমুদ্রা ও অন্যান্য স্মারক পরিকল্পনা
শুধু পাসপোর্টই নয়, স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রা চালুর পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
অর্থ দপ্তর জানিয়েছে, নতুন কাগজের মুদ্রায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো বর্তমান বা সাবেক প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর মুদ্রায় যুক্ত হওয়ার ঘটনা এটি।
এই সব উদ্যোগের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে ট্রাম্প স্মারক পাসপোর্ট, যা রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের নাম যুক্ত প্রশাসনিক উদ্যোগ
গত বছরের শুরুতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার নাম যুক্ত করেছে বলে জানানো হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহ
- নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ পরিকল্পনা
- ধনী বিদেশিদের জন্য ভিসা কর্মসূচি
- সরকারি প্রেসক্রিপশন ওষুধ ওয়েবসাইট
- শিশুদের ফেডারেল সঞ্চয়ী হিসাব
এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ট্রাম্প স্মারক পাসপোর্ট উদ্যোগকেও দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা
যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনো পুরো পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেনি, তবে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় নথিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্মারক সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক বার্তার একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প স্মারক পাসপোর্ট চালুর পরিকল্পনা দেশটির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সীমিত সংস্করণ, বিনামূল্যে বিতরণ এবং ট্রাম্পের ছবি সংযোজন—সব মিলিয়ে এটি এখন আন্তর্জাতিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।




