এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (27)
বিজিবির নতুন ৩০২৩ সদস্য শপথ: নিলেন দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার
Shikor Web Image (24)
বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ ভোট সিদ্ধান্ত: নজরুল ইসলাম খান
Shikor Web Image (23)
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য: দায়িত্বে থাকবে বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (19)
জনগণের আস্থা তৈরি করার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই: আমীর খসরু
Shikor Web Image (5)
কত আসনে লড়বে এনসিপি

১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা: জামায়াত লড়বে কত আসনে?

১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত হিসাব সামনে এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতসহ ১১ দলের কে কত আসনে লড়বে, জানুন বিস্তারিত।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা। কে কোন আসনে নির্বাচন করবে, জামায়াতে ইসলামী কতটি আসনে প্রার্থী দেবে এবং শরিক দলগুলোর ভাগে কী পরিমাণ আসন পড়ছে—এসব প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলের কেন্দ্রবিন্দুতে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্যের পরপরই জোটের আসন বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা শুধু একটি নির্বাচনী সমঝোতা নয়; বরং এটি আগামী নির্বাচনের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


🟢 ১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা: মোট কাঠামো কীভাবে সাজানো হচ্ছে?

৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে জোটভিত্তিক নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আসন বণ্টন অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী এককভাবে সর্বাধিক আসনে নির্বাচন করতে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য বণ্টন অনুযায়ী—

  • জামায়াতে ইসলামী: ১৯০ আসন

  • বাকি ১০ দল: ১১০ আসন

এই হিসাব অনুযায়ী, ১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা জামায়াতকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে। তবে শরিক দলগুলোও নিজ নিজ রাজনৈতিক শক্তি ও সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।


🗳️ জামায়াত কত আসনে লড়বে?

জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলের মূল ভিত্তি এবার আসন সংখ্যায় শক্ত অবস্থান তৈরি করা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দলটি ১৯০টি আসনে প্রার্থী দিতে পারে। এটি মোট সংসদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত মনে করছে—

  • সাংগঠনিক কাঠামো তুলনামূলক শক্ত

  • গ্রামীণ এলাকায় ভোটব্যাংক সক্রিয়

  • জোটের নেতৃত্বে থাকায় আসন দাবি যৌক্তিক

এই কারণে ১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা আলোচনায় জামায়াত সবচেয়ে বড় অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।


🤝 ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কত আসনে নির্বাচন করতে পারে?

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম বড় শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলটি প্রায় ৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক শক্তি কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে বেশ দৃশ্যমান। তাই ১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা আলোচনায় তাদের জন্য আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


🟡 এনসিপি ও অন্যান্য দলের সম্ভাব্য আসন বণ্টন

সম্প্রতি জোটে যুক্ত হওয়া এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী—

  • এনসিপি: ৩০ আসন

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ১৫ আসন

  • খেলাফত মজলিস (অন্য অংশ): ৭ আসন

  • এলডিপি: ৭ আসন

  • এবি পার্টি: ৩ আসন

  • বিডিপি: ২ আসন

  • জাগপা: ১ আসন

  • অন্য ৩ দল: মোট ৫ আসন

এই হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, ১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণভাবে ভাগ করা হয়েছে।


🌍 ইইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ—

  • আন্তর্জাতিক মহলের নজর নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে

  • অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ

  • জোটের অবস্থান ব্যাখ্যার সুযোগ

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলে জোট একটি সুসংগঠিত নির্বাচনী রূপরেখা উপস্থাপন করতে পারবে।


🔍 রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ১১ দলীয় জোট

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি নির্বাচনী মাঠে একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে—

  • প্রার্থী বাছাই

  • স্থানীয় সমন্বয়

  • ভোট ব্যবস্থাপনা

এই সবকিছু ঠিকভাবে পরিচালিত না হলে বড় আসন বণ্টনও কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর শুরু হবে—

  • প্রার্থী চূড়ান্তকরণ

  • নির্বাচনী প্রচার

  • মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সমঝোতা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের সাড়া ও নির্বাচন পরিচালনার পরিবেশের ওপর।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা ইতোমধ্যে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত এই জোট আসন বণ্টনের মাধ্যমে একটি সুসংহত নির্বাচনী কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে।

চূড়ান্ত ঘোষণা এলে রাজনৈতিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। আপডেট পেতে চোখ রাখুন Shikor TV Canada-এর সঙ্গে।

সর্বাধিক পঠিত