৭০% মানুষের রায় উপেক্ষা করে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয় ডা. শফিকুর রহমানের বিস্ফোরক মন্তব্য চট্টগ্রামের সমাবেশে উঠে এল গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সরকারের সমালোচনা।
শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা” করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে অবজ্ঞা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় এটি বড় সংকট তৈরি করে।
এই সমাবেশে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভোটাধিকার, জনদুর্ভোগ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার নানা বিষয় উঠে আসে। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বারবার ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা প্রসঙ্গটি তুলে ধরে বলেন, জনগণের প্রকৃত রায় ও ভোটাধিকার যদি প্রতিফলিত না হয়, তাহলে রাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
গণতন্ত্র ও জনরায় নিয়ে অবস্থান
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। তাঁর মতে, যদি সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণই তার জবাব দেবে। তিনি আরও বলেন, যে সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা করে, সেটি কখনোই জনগণের প্রকৃত সরকার হতে পারে না।
এই বক্তব্যে তিনি গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনা এবং জনমতের গুরুত্বকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সমাবেশে দেওয়া এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি একটি শক্ত অবস্থান প্রকাশ করে।
৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা ও সরকারের সমালোচনা
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন,

দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা হলেও সেখানে জনগণের সমস্যাগুলো—যেমন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থ—নিয়ে কথা বলতে গেলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।
তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামো দীর্ঘদিন টেকসই হতে পারে না, কারণ এতে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়।
চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসমাবেশ
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। লালদীঘি ময়দান ছিল রাজনৈতিক স্লোগান, ব্যানার ও জনসমাগমে মুখর।
সমাবেশটি ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত হয়, যেখানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ডা. শফিকুর রহমান আবারও বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা করার সংস্কৃতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।
জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বক্তব্য
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে রক্ষা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও তারা প্রস্তুত। এখানে আবারও তিনি ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা বিষয়টি গণতান্ত্রিক সংকটের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জনদুর্ভোগ
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। তাঁর মতে, একটি নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম সংসদ এবং রাজপথ—দুই জায়গাতেই চলবে।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি আবারও সতর্ক করেন, ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা করলে কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থাই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের এই সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জোরদার করবে। বিশেষ করে ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা বিষয়টি আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে বারবার গণরায়, ভোটাধিকার ও সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়টি উঠে আসে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি চাপ সৃষ্টিকারী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।





