যুক্তরাজ্যের চেভেনিং স্কলারশিপের আবেদন শুরু, ৬ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। নির্বাচিতরা যুক্তরাজ্যে ১ বছরের মাস্টার্সে পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ পাবেন।
উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চেভেনিং স্কলারশিপ আবেদন শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়নে এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আবেদন গ্রহণ চলবে আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চেভেনিং স্কলারশিপ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নেতাদের বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ তৈরি এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের নেতৃত্বের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।
চেভেনিং স্কলারশিপ আবেদন: কী সুযোগ মিলবে

চেভেনিং স্কলারশিপ আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন করে নির্বাচিত হলে একজন শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স প্রোগ্রামে সম্পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ পাবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু উচ্চশিক্ষাই নয়, বরং অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পান। পাশাপাশি তারা নিজ নিজ দেশে টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেন।
এই কর্মসূচিকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশে যুক্তরাজ্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনের সময়সীমা
চলতি বছরের চেভেনিং স্কলারশিপ আবেদন আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে।
আগ্রহীদের আবেদন করার আগে কর্মসূচির লক্ষ্য, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদন-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো ভালোভাবে পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক যা বলেছেন
বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, চেভেনিং স্কলারশিপ বাংলাদেশের মেধাবী তরুণদের সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচন করে চলেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিতে পারায় তারা গর্বিত। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে গড়ে ওঠা দক্ষ মানবসম্পদ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।
১৯৮৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্জন
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালে কর্মসূচি চালুর পর থেকে বাংলাদেশের ৩৯৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী চেভেনিং স্কলারশিপ অর্জন করেছেন।
এটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচি
চেভেনিং স্কলারশিপের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি কেবল একটি উচ্চশিক্ষা বৃত্তি নয়। এর মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একাডেমিক পরিবেশে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পেশাজীবী ও ভবিষ্যৎ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে।
আবেদন করার আগে যা জানা প্রয়োজন
আগ্রহীদের আবেদন জমা দেওয়ার আগে কর্মসূচির উদ্দেশ্য, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং আবেদন-সংক্রান্ত নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে নেতৃত্বের সক্ষমতা গড়ে তুলতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য চেভেনিং স্কলারশিপ আবেদন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। যুক্তরাজ্য সরকারের এই পূর্ণ অর্থায়নের কর্মসূচি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ একসঙ্গে প্রদান করে। আবেদন করতে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





