আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (29)
জুলাই জাদুঘরের টিকিট মিলবে অনলাইনে, জেনে নিন প্রক্রিয়া
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে এলেন যারা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
বেরোবি ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (25)
বর্তমান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের ১৮ কোটি মানুষ: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (22)
পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২য় বার্ষিকীতে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণের এই উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে স্মৃতি ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যেই এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি শুধু আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য খোলা রাখা হলেও আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা

বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাদুঘরের স্মৃতি ফলক উন্মোচন করেন। ফলক উন্মোচনের পর সূরা ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। তিনি সেখানে সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারক পরিদর্শন করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে অবহিত হন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—

  • অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
  • সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী
  • মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান
  • প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

কীভাবে গড়ে উঠল জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনকে রূপান্তর করে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন।

২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।

এর তিন দিন পর, ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে। পরে সেই সরকারের সময়েই জুলাইয়ের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং গণভবনে প্রতিষ্ঠা করা হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য হলো—

  • গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ
  • সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা
  • জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখা
  • সংশ্লিষ্ট দলিল, আলোকচিত্র ও স্মারক সংরক্ষণ

এই উদ্যোগের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে জানার সুযোগ পাবেন।

দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সময়

উদ্বোধনের দিন শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য জাদুঘরটি খোলা রাখা হয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।

দ্বিতীয় বার্ষিকীতে উদ্বোধনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল। এতে সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারকের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলো। উদ্বোধনের পর আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত