মোহাম্মদ রিজওয়ানের এক মাস ধরে জব্দ ফোন, অনলাইন বেটিং তদন্তে প্রশ্নমালা, মিডিয়ায় কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান প্রায় এক মাস ধরে নিজের ফোন ফেরত পাননি। ইংল্যান্ড সফর থেকে ফেরার পর দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন (এনসিসিআইএ) এজেন্সি অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত শুরু করার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাঁকে একটি ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টেও খেলার অনুমতি দেয়নি। ফলে তাঁর ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চলতি মাসের মাঝামাঝিতে শেষ হওয়া ইংল্যান্ড সফর থেকেই এই তদন্তের সূত্রপাত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে মোহাম্মদ রিজওয়ান পাকিস্তানের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে অনেকটাই বাইরে রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
কেন তদন্তের মুখে মোহাম্মদ রিজওয়ান

এনসিসিআইএ মোহাম্মদ রিজওয়ানের বিরুদ্ধে অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত তদন্ত করছে। ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার পর এই তদন্ত সামনে আসে। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং প্রায় এক মাস পার হলেও সেটি ফেরত দেওয়া হয়নি।
তবে তদন্ত চললেও তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পিসিবি স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। বোর্ড জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।
পিসিবির সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের বিষয় বোর্ডের নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরিচালিত হয়। বোর্ডের বিধিমালা অনুসরণ করেই সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার বিষয় যথাযথভাবে দেখা হচ্ছে।
অর্থাৎ, বর্তমান পরিস্থিতিতে তদন্ত চলছে—এটিই নিশ্চিত। কিন্তু তদন্তের ফলাফল কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
মোহাম্মদ রিজওয়ানের কাছে পাঠানো হয়েছে নোটিশ
পিসিবির আইন বিভাগের সাবেক প্রধান তাফাজ্জুল রিজভি ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে মোহাম্মদ রিজওয়ানের কাছে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তাঁকে একটি প্রশ্নমালার উত্তর দিতে বলা হয়েছে।
তাফাজ্জুল রিজভির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া বা কোনো তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হতে বলা মানেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হতে পারে তথ্য সংগ্রহ করা।
তিনি আরও সতর্ক করেছেন, বর্তমান পর্যায়ে রিজওয়ানের বিষয়ে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তাঁর সুনাম বা সততা নিয়েও প্রশ্ন তোলার মতো অবস্থান নেওয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এই বক্তব্যটি তদন্তের বর্তমান অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। কারণ, তদন্ত চলা এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়া—দুটি বিষয় এক নয়। রিজভির বক্তব্যেও মূলত সেই পার্থক্যটিই সামনে এসেছে।
মিডিয়ার সঙ্গেও কথা বলতে পারছেন না রিজওয়ান
তদন্তের পাশাপাশি মোহাম্মদ রিজওয়ানকে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত দুইবার রিজওয়ানকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তিনি কোনো ব্যক্তি, পিসিবি, এফআইএ, এনসিসিআইএ কিংবা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না—এমন অবস্থান জানানোর পরও তাঁকে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এ কারণে তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে রিজওয়ানের নিজের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট—রিজওয়ানের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি তাঁর প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও সীমিত হয়েছে। ফলে তাঁর অবস্থান বা তদন্ত নিয়ে ব্যক্তিগত বক্তব্য সরাসরি জানা যাচ্ছে না।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও খেলতে পারছেন না
জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও সাধারণত ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে খেলোয়াড়দের। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১ প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টেও খেলতে দেওয়া হয়নি।
ইংল্যান্ড সফর থেকে ফিরে আসা পাকিস্তানের বেশির ভাগ ক্রিকেটার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রিজওয়ানকে নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেড দলের সহ-অধিনায়কও করা হয়েছিল।
তবে দলটির সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলেও মাঠে নামার অনুমতি পাননি তিনি। ফলে তাঁর ক্রিকেট কার্যক্রমের ওপর তদন্তের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
একদিকে তদন্ত, অন্যদিকে ক্রিকেটের বাইরে
বর্তমান পরিস্থিতিতে রিজওয়ানের সামনে দুটি বিষয় পাশাপাশি দাঁড়িয়েছে। একদিকে এনসিসিআইএ তাঁর বিরুদ্ধে অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত তদন্ত করছে। অন্যদিকে পিসিবির অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার কারণে তিনি ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও অংশ নিতে পারছেন না।
তাঁর ফোনও প্রায় এক মাস ধরে জব্দ রয়েছে। এর সঙ্গে মিডিয়ার সামনে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ব্যাখ্যাও প্রকাশ্যে আসেনি।
তবে তদন্ত এখনো চলমান এবং কোনো চূড়ান্ত নেতিবাচক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাফাজ্জুল রিজভির বক্তব্যও এই পর্যায়ে অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টি তুলে ধরে।
পিসিবির অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়
মোহাম্মদ রিজওয়ান ইস্যুতে পিসিবি এখন পর্যন্ত তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং নিজস্ব বিধিমালা অনুসরণ করে বিষয়টি পরিচালনা করছে।
এর ফলে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, রিজওয়ানের ফোন কবে ফেরত দেওয়া হবে কিংবা তিনি কবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন—এসব বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
তবে পিসিবির বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, বিষয়টি বোর্ডের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার অধীনেই রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।
তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ রিজওয়ানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, কিন্তু তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। তাঁকে নোটিশ দিয়ে প্রশ্নমালার উত্তর দিতে বলা হয়েছে এবং তাঁর ফোন জব্দ রয়েছে।
একই সঙ্গে তাঁকে প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলতে দেওয়া হয়নি। নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেডের সহ-অধিনায়ক করা হলেও মাঠে নামার অনুমতি পাননি তিনি।
ফলে রিজওয়ানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সাময়িকভাবে একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই—তাফাজ্জুল রিজভির বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
বর্তমানে মূলত তিনটি বিষয়ের দিকে নজর রয়েছে—এনসিসিআইএর তদন্তের ফলাফল, জব্দ থাকা ফোনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে রিজওয়ানের ফেরার অনুমতি।
তবে এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ রিজওয়ানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।





