রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের সমাপ্তি, কোয়ার্টারে স্পেন, পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে। শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর গোলে বিদায় নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, উঠল স্পেন শেষ আটে।
স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে। মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের ইনজুরি টাইমে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলেই জয় তুলে নেয় স্পেন। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্নও শেষ হয়ে যেতে পারে।
দুই দলের আক্রমণভাগের ব্যর্থতা এবং গোলরক্ষকদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের কারণে পুরো ম্যাচজুড়ে গোলের দেখা মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত ইনজুরি সময়ে রদ্রির নিখুঁত পাস থেকে মেরিনোর দুর্দান্ত ফিনিশিং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার গল্প
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। পর্তুগাল ও স্পেন—দুই দলই শুরু থেকেই গোলের খোঁজে মরিয়া ছিল। তবে প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি।
প্রথম ছয় মিনিটেই জোয়াও ক্যান্সেলোর শট লক্ষ্যের ওপর দিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবাল গোলরক্ষককে একা পেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।
১২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের পাস থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শক্তিশালী শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন।
গোলরক্ষকদের নৈপুণ্যে জমে ওঠে ম্যাচ
প্রথমার্ধে দুই গোলরক্ষকই ছিলেন অসাধারণ।
পর্তুগালের দিয়োগো কস্তা পরপর দুই মিনিটে লামিন ইয়ামাল ও আলেক্স বায়েনার শট ফিরিয়ে দেন। এরপর ৩১ মিনিটেও তার দুর্দান্ত সেভে গোলবঞ্চিত হয় স্পেন।
অন্যদিকে ৩৭ মিনিটে উনাই সিমোন জোয়াও ফেলিক্স ও রোনালদোর টানা দুই প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে স্পেনকে রক্ষা করেন।
বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্পেন
৪১ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়। নুনো মেন্দেসের জোরালো শট স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে ক্রসবারে প্রতিহত হয়।
এরপরই স্পেন নতুন এক বিশ্বরেকর্ড গড়ে। ২০২২ বিশ্বকাপ ও চলতি আসর মিলিয়ে টানা ৫৬১ মিনিট গোল না খেয়ে তারা সুইজারল্যান্ডের ১৬ বছর পুরোনো বিশ্বকাপ রেকর্ড ভেঙে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দ হারায় দুই দল
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। পুরো ম্যাচে লামিন ইয়ামালকে সফলভাবে সামলানো নুনো মেন্দেস ৫৬ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তার জায়গায় নামেন নেলসন সেমেদো।
৭৩ মিনিটে ইয়ামালের বিপজ্জনক ফ্রি-কিকও কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন দিয়োগো কস্তা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল।
শেষ মুহূর্তে মেরিনোর গোলেই নিশ্চিত জয়
নির্ধারিত সময়ের ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা মিকেল মেরিনো ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন।
রদ্রির ডিফেন্সচেরা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত ফিনিশিং করেন তিনি। সেই একমাত্র গোলেই স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয় এবং পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়।
রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ে হতাশার সমাপ্তি

এই হারের ফলে গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা পর্তুগাল এবার বিদায় নিল শেষ ষোলো থেকেই।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্নও অপূর্ণই থেকে যেতে পারে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।
অন্যদিকে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই প্রথম স্পেন আবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল। পাশাপাশি গত বছরের উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে পর্তুগালের কাছে হারের প্রতিশোধও নিল ‘লা রোহা’।
সামনে কার মুখোমুখি স্পেন?
শেষ আটের লড়াইয়ে স্পেন খেলবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে। শেষ মুহূর্তের এই জয় স্প্যানিশ শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে।





