এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (15)
নতুন পে স্কেলে বেতন নিয়ে জটিলতা, পাচ্ছেন না অনেক চাকরিজীবী
Website Feature Image (12)
ঢাকা-টোকিওর যৌথ ঘোষণা: পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্য জাপানের
News Photocard (13)
মহানগর এক্সপ্রেসের নতুন রুট: এক ট্রেনেই কক্সবাজারে যেতে পারবে ৫ জেলার মানুষ
News Photocard (9)
ফেনীতে মাকে কুপিয়ে হত্যা, মেয়ে আটক
News Photocard (48)
বিদেশের কারাগারে ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি, সহায়তা নিয়ে অভিযোগ

ইউনিক্লোর সঙ্গে বৈঠক: বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিংকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানে বৈঠকে তৈরি পোশাক, প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় উঠে এসেছে।

টোকিওতে জাপানের বিশ্বখ্যাত পোশাক প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর মূল কোম্পানি ফাস্ট রিটেইলিংয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৃত্রিম তন্তু, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল ও টেকসই পোশাক উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দুই দেশের বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ফাস্ট রিটেইলিংয়ের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রতি ইউনিক্লোর আস্থা এবং ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে জমির ব্যবস্থা, বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও সরকারের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে প্রচলিত তৈরি পোশাক উৎপাদনের পাশাপাশি উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোর সঙ্গে আলোচনার গুরুত্ব

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানো, উৎপাদনপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং নতুন ধরনের পোশাক তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলা শিল্পটির ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ফাস্ট রিটেইলিংয়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশে ইউনিক্লোর কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা।

ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির আস্থার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানান।

এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, বৈঠকে শুধু বিদ্যমান ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয় নয়, বরং বিনিয়োগের পরিধি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।

তবে বৈঠকে বিনিয়োগের নির্দিষ্ট পরিমাণ, নতুন কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত কিংবা কোনো প্রকল্প শুরুর সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। ফলে আলোচনাকে সম্ভাব্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে, নিশ্চিত নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা হিসেবে নয়।

কৃত্রিম তন্তু ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলে বিনিয়োগের ওপর জোর

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রচলিত উৎপাদনের পাশাপাশি নতুন ধরনের উপকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে তিনটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান:

  • ম্যান-মেড ফাইবার: প্রাকৃতিক তন্তুর পাশাপাশি কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো।

  • টেকনিক্যাল টেক্সটাইল: বিশেষ ব্যবহার ও কার্যকারিতার জন্য তৈরি প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতা বৃদ্ধি।

  • টেকসই পোশাক উৎপাদন: পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং টেকসই পোশাক তৈরির সক্ষমতা উন্নত করা।

এই ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি পোশাকশিল্পে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রচলিত পোশাক উৎপাদনের পাশাপাশি উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈশ্বিক পোশাকবাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পণ্যের মান, উৎপাদনপ্রযুক্তি এবং পরিবেশগত বিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বৈঠকে এসব বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়নের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে।

তবে নির্দিষ্ট কোনো পণ্য উৎপাদনের প্রকল্প, বিনিয়োগের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি জমি, অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ফাস্ট রিটেইলিংয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব ক্ষেত্রেও সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য জমির ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এই উদ্যোগের তাৎপর্য হলো, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে, কত দিনের মধ্যে অনুমোদন সম্পন্ন হবে কিংবা নতুন বিনিয়োগের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা দেওয়া হবে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করতে নীতিগত সহযোগিতা এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈঠকে এ ধরনের সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসায় বাংলাদেশে ফাস্ট রিটেইলিংয়ের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও এগিয়েছে।

প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা

বৈঠকে শুধু বিনিয়োগের পরিমাণ বা উৎপাদন বাড়ানোর বিষয় নয়, উৎপাদনব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যে উদ্ভাবন এবং উন্নত উৎপাদনব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়।

প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে সম্ভাবনা

প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে উৎপাদনপ্রক্রিয়া উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইভাবে দক্ষতা উন্নয়ন ও পণ্যে উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিলে নতুন ধরনের পণ্য তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকে।

বৈঠকে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশে সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রচলিত উৎপাদনব্যবস্থার বাইরে আরও উন্নত ও বৈচিত্র্যময় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে কী ধরনের প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হবে, কোন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হবে কিংবা দক্ষতা উন্নয়নে কতজন কর্মী অংশ নেবেন—এমন নির্দিষ্ট তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়ার গুরুত্ব

বৈঠকে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পোশাকশিল্পে টেকসই উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলে উৎপাদনব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং পরিবেশগত বিবেচনাকে শিল্পের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষ কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়নি। তবে টেকসই পোশাক উৎপাদনকে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্ব

বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্টের (ইপিএ) বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

চুক্তিটি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়। ফলে ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জাপানের বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

বাংলাদেশে জাপানি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

তবে ইপিএ বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি, চুক্তির আওতায় নতুন কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কারা উপস্থিত ছিলেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে সরকারের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন:

  • অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

  • প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

  • পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির

  • ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান

  • প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান

  • প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন

  • সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা

অন্যদিকে, জাপানের প্রতিনিধিদলে ফাস্ট রিটেইলিংয়ের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও সিইও তাদাশি ইয়ানাইয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তাকেশি ওকাজাকি এবং গ্রুপ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ইয়োশিহিরো কুনিই উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীর উপস্থিতি বৈঠকটিকে দুই পক্ষের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ করে তুলেছে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ: সামনে কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, উন্নত উৎপাদনপ্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই পোশাক উৎপাদনের মতো একাধিক বিষয় উঠে এসেছে। এসব আলোচনার বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে ভবিষ্যতে দুই পক্ষ কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং প্রস্তাবিত সহযোগিতা কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:

প্রথমত, বিনিয়োগের বাস্তব পরিকল্পনা। বাংলাদেশে ইউনিক্লোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রকল্প, অর্থের পরিমাণ ও সময়সীমা প্রকাশ করা হলে উদ্যোগটির পরিধি আরও স্পষ্ট হবে।

দ্বিতীয়ত, উৎপাদনে বৈচিত্র্য। ম্যান-মেড ফাইবার, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

তৃতীয়ত, প্রশাসনিক সহযোগিতা। জমি, অনুমোদন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সরকারের ঘোষিত সহযোগিতা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়, তা বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

চতুর্থত, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন। প্রযুক্তি হস্তান্তর, পণ্যে উদ্ভাবন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতার বাস্তব রূপ নির্ধারিত হলে শিল্পের আধুনিকায়নে অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পঞ্চমত, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রগতি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এগুলো বৈঠকে আলোচিত বিষয়ের ভিত্তিতে চিহ্নিত সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্র। এগুলোকে ইতিমধ্যে সম্পন্ন প্রকল্প বা নিশ্চিত বিনিয়োগের ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

জাপানের টোকিওতে ফাস্ট রিটেইলিংয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে ইউনিক্লোর কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং তৈরি পোশাকশিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। কৃত্রিম তন্তু, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, টেকসই পোশাক, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পাশাপাশি জমি ও বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন সহজ করতে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্বও উঠে এসেছে।

এখন আলোচনার বিষয়গুলো বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন উৎপাদন উদ্যোগ কিংবা প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় রূপ নেয় কি না, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত