নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা হয়েছে। ২১, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দামসহ জেনে নিন সর্বশেষ দর ও আগের সমন্বয়ের তথ্য।
বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় আবারও কমেছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। গত রোববার প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার নতুন দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। নির্ধারিত এই দর ওই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখেও একই দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২৩ অক্টোবর সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময়ও ২২ ক্যারেটের সোনার দাম কমানো হয়। এর আগেও আরও দুই দফা দাম কমানোর তথ্য রয়েছে।
সোনার নতুন দাম কমায় ক্রেতাদের জন্য আগের তুলনায় কম মূল্যে গয়না কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বাজারে সোনার চাহিদা, তেজাবি সোনার মূল্য এবং পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্তের ওপর ভবিষ্যৎ দর নির্ভর করবে।
সোনার নতুন দাম: কোন ক্যারেটের ভরি কত?
২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন মানের সোনার প্রতি ভরির দাম নিচে দেওয়া হলো।

| সোনার ধরন | প্রতি ভরির দাম |
|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,২০,৮৫৮ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,১০,৯৪৩ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৮১,২০০ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৪৮,০১৬ টাকা |
২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরির নির্ধারিত মূল্য ভ্যাটসহ ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
এখানে উল্লেখিত মূল্যগুলো উৎসে দেওয়া নির্ধারিত দর। গয়না কেনার ক্ষেত্রে দোকানের চূড়ান্ত বিলের সঙ্গে অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ যুক্ত হতে পারে। তাই কেনাকাটার আগে বিক্রেতার কাছ থেকে বর্তমান মূল্য ও অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
রোববার এক ভরিতে কমেছে ৩,৩২৪ টাকা
গত রোববার সোনার দাম নতুন করে সমন্বয় করা হয়। ওই দিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়। এর ফলে ভ্যাটসহ প্রতি ভরির দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা।
নতুন দর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়। ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবারও একই দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়াকে মূল্য হ্রাসের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বাজারে সোনার কাঁচামালের মূল্য কমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবর্তন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রতি ভরিতে কয়েক হাজার টাকা কমলেও গয়না কেনার মোট ব্যয়ে তার প্রভাব পড়তে পারে।
২৩ অক্টোবরও কমানো হয়েছিল সোনার দাম
রোববারের মূল্য হ্রাসের আগে গত ২৩ অক্টোবরও সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই দিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।
২৩ অক্টোবর কার্যকর হওয়া মূল্যতালিকায় অন্যান্য মানের সোনার দামও নির্ধারণ করা হয়েছিল।
| সোনার ধরন | ২৩ অক্টোবরের দাম |
|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,২৪,১৮২ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,১৪,০৯৩ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৮৩,৮৮৩ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৫০,২৩২ টাকা |
সেদিনের নির্ধারিত দামও সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।
২৩ অক্টোবরের সঙ্গে ২৭ অক্টোবরের দাম তুলনা করলে দেখা যায়, ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমেছে। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের দাম কমেছে ৩ হাজার ১৫০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম কমেছে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমেছে ২ হাজার ২১৬ টাকা।
এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, সর্বশেষ সমন্বয়ে শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য মানের সোনার দামও কমেছে।
ধারাবাহিক মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব কী?
সোনার দাম কমা বা বাড়ার প্রভাব সরাসরি অনুভব করেন গয়না কিনতে আগ্রহী মানুষ। বিশেষ করে বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য যারা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে প্রতি ভরির মূল্য পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বশেষ সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায় নেমে এসেছে। ২৩ অক্টোবরের তুলনায় প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কম হওয়ায় একই পরিমাণ সোনা কেনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যে ব্যয় কমেছে।
তবে শুধু প্রতি ভরির দাম দেখেই গয়নার চূড়ান্ত খরচ নির্ধারণ করা যায় না। ক্রেতাকে গয়নার ধরন, ওজন এবং বিক্রেতার হিসাবে প্রযোজ্য অন্যান্য খরচও বিবেচনায় নিতে হবে। প্রকাশিত মূল্যতালিকায় ২২ ক্যারেটের দাম ভ্যাটসহ উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সোনার দাম কমেছে বলেই ভবিষ্যতেও একই প্রবণতা থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নতুন মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে তেজাবি সোনার বাজারদর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী সময়ে দাম বাড়বে নাকি কমবে, তা জানতে নতুন মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
ক্রেতাদের জন্য কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?
সোনার গয়না কেনার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
প্রথমত, ক্যারেট অনুযায়ী দাম যাচাই করুন। ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম এক নয়। তাই গয়না কেনার আগে সেটির ক্যারেট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতি ভরির মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, সর্বশেষ কার্যকর দর জেনে নিন। সোনার মূল্য নিয়মিত সমন্বয় হতে পারে। ফলে পুরোনো মূল্যতালিকার পরিবর্তে কেনাকাটার দিনের কার্যকর দর যাচাই করা উচিত।
তৃতীয়ত, চূড়ান্ত বিল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন। প্রতি ভরির নির্ধারিত দাম এবং গয়নার জন্য প্রদেয় মোট অর্থ এক নাও হতে পারে। দোকানে কেনার আগে সব প্রযোজ্য খরচ সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।
চতুর্থত, মূল্য পরিবর্তনের কারণ অনুসরণ করুন। সর্বশেষ দর কমার পেছনে স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন মূল্য সমন্বয় হলে তা ক্রেতাদের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।
২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত রোববার প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ২৩ অক্টোবরও সোনার দাম কমানো হয়েছিল। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম হ্রাসকে সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই গয়না কেনার আগে ক্রেতাদের সর্বশেষ কার্যকর দর এবং চূড়ান্ত খরচ যাচাই করা উচিত।





