আরও খবর

Shikor Web Image (23)
ওমরাহ পালন করতে যাচ্ছেন জামায়াত আমির
Shikor Web Image (20)
সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আনসারকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
Shikor Web Image (17)
চাঁদাবাজদের তালিকা করে শিগগিরই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Shikor Web Image (8)
হাইকোর্টের রুল: জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয়
Shikor Web Image (5)
চালের দাম বৃদ্ধির খবর শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সোমবার রাত থেকে হঠাৎ অবনতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো সূত্রে জানা গেছে, তাঁর চিকিৎসা সাপোর্টে ইতিমধ্যেই চিন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল হাসপাতালে পৌঁছেছে। দেশের একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আমেরিকার জনস হপকিনস হাসপাতাল এবং লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের অধীনে খালেদার চিকিৎসা চলছে।

রাজধানীর হাসপাতালের সামনে দলের নেতা-কর্মীদের ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং হাসপাতালে প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত

সোমবার রাতে খালেদার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতির দিকে গেছে। বর্তমানে তিনি ভেন্টিলেশনে আছেন এবং চিকিৎসকরা ল্যাব ও মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নিরীক্ষণ চালাচ্ছেন। প্রধান সমস্যা হিসেবে তাঁর কিডনি ও ফুসফুসের সংক্রমণ চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়সজনিত কারণে একাধিক রোগ একসাথে প্রভাব ফেলছে।

চিকিৎসক আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সহায়তার জন্য চিনের পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যেই এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছে। মূল চিকিৎসক দল মঙ্গলবার পৌঁছাবে।”

কিডনি সমস্যা ও নিউমোনিয়া:
খালেদা জিয়ার কিডনির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। টানা চারদিন ডায়ালিসিস চলেছে। এছাড়া তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং নিউমোনিয়া রয়েছে। চিকিৎসকরা সতর্ক অবস্থানে আছেন, কারণ একটির চিকিৎসা অন্যটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নেতা-কর্মীদের ভিড়

ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাবের প্রায় ৫০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা ব্যারিকেডের মাধ্যমে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছেন। যদিও তাঁদের কেউ সরাসরি খালেদা জিয়ার কাছাকাছি যেতে পারছেন না। তাঁরা অন্তত সশরীরে এসে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে চাইছেন।

বরিশালের উজিরপুর থেকে এসেছেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “দেখতে পাব না, তবুও এসেছি। মনটা হালকা হবে ভেবে। ছোটবেলা থেকেই খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা আছে। তিনি সুস্থ হবেন—এটাই প্রত্যাশা।”


বিদেশি চিকিৎসকদের উপস্থিতি

চিন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দল ছাড়াও আমেরিকা ও লন্ডনের চিকিৎসকরা খালেদার চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছেন। এটি আন্তর্জাতিকভাবে চিকিৎসার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলা সত্ত্বেও তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক।

পরিবার ও দলের দৃষ্টিভঙ্গি

খালেদার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে থাকায় মাকে দেখতে আসতে পারছেন না। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে কিছু রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না।

বিএনপি-র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান জানিয়েছেন, “খালেদা জিয়া এখনও লড়াই করছেন আমাদের মাঝে ফিরে আসার জন্য। এখনও অবস্থা সঙ্কটজনক।”

Related Internal Post: বিএনপি নেতা কর্মীদের সর্বশেষ আন্দোলন (Internal Link with Focus Keyword Anchor)

জনগণের প্রতিক্রিয়া

রাজধানী ঢাকার হাসপাতালের বাইরে সাধারণ জনগণও উদ্বিগ্ন। অনেকেই দোয়া করছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।

সোহেলী পারভিন শিখা বলেন, “এত দিন নিয়মিত খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছিল। হঠাৎ অবস্থা সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালে আসলাম।”

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর। এভারকেয়ার হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে এবং বিদেশি ও দেশীয় চিকিৎসকদের সমন্বয়ে চিকিৎসা চলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সকলের দোয়া ও শুভকামনা এখনই তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

সর্বাধিক পঠিত