এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image - 2026-03-12T150711.345
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন
Shikor Web Image - 2026-03-12T150235.435
ডেপুটি স্পিকার হলেন কায়সার কামাল
Shikor Web Image - 2026-03-12T145742.401
সংসদ অধিবেশনে ড. ইউনূস-জাইমাসহ আরো রয়েছেন যারা
Shikor Web Image (98)
নতুন মন্ত্রী আহমেদ আযম খান
Shikor Web Image (96)
সংসদে শোকপ্রস্তাব খালেদা জিয়া ও বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা : উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি নেই

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার প্রতি দেশের মানুষের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত জটিলতা এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মেডিকেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র এবং ফুসফুসের অবস্থা ওঠানামা করছে, যা চিকিৎসকদের জন্য এক চ্যালেঞ্জের বিষয়।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি

চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন দফার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও খালেদা জিয়ার মূল সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, তাঁকে কয়েক দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি ও হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা অব্যাহত থাকায় ঝুঁকি এখনও কমেনি।

চিকিৎসা ও বিদেশযাত্রা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও এই পরিস্থিতি প্রভাব ফেলছে। একটি সূত্র জানাচ্ছে, চিকিৎসকেরা সম্প্রতি বিদেশ পাঠানোর সম্ভাব্য তারিখ দুই দিন পিছিয়েছেন। দীর্ঘ যাত্রার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, এবং এখন সবকিছু নির্ভর করছে পরবর্তী ২৪–৪৮ ঘণ্টায় শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের ওপর।

মেডিকেল বোর্ডের পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা

গত শনিবার রাতে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকের পর শনিবার ও রোববার খালেদা জিয়ার বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবারও বোর্ড বৈঠক হবে, যেখানে সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র এবং ফুসফুসের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে প্রতিদিন হাসপাতালে তদারকি করছেন।

স্থিতিশীল কিন্তু আশঙ্কামুক্ত নয়

মেডিকেল বোর্ডের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার সমস্যাগুলো কিছু সময় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সর্বশেষ পরীক্ষায় কিডনি ও ফুসফুসের কিছু উন্নতি দেখা গেলেও সামগ্রিক ঝুঁকি কমাতে তা যথেষ্ট নয়। চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করছেন, নতুন কোনো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এ কারণে বিদেশে পাঠানোর সম্ভাব্য তারিখ বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। বিএনপি পূর্বে জানিয়েছিল, ৫ ডিসেম্বর ভোরে তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হবে। পরে তা পিছিয়ে ৭ ডিসেম্বর এবং রাতের সংবাদে ৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত সেই তারিখও অনিশ্চিত।

দেশের মানুষের উদ্বেগ ও সমালোচনা

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিশেষত, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন প্রতিনিয়ত নজরে রাখা হচ্ছে।

শিকর টিভি কানাডার আগের রিপোর্টগুলোও পড়ুন যেখানে বিস্তারিতভাবে চিকিৎসা এবং রাজনৈতিক প্রভাব আলোচনা করা হয়েছে।

বিদেশি সূত্রও জানান, দীর্ঘ সময়ের হাসপাতালে থাকা এবং যাত্রার ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। WHO-এর স্বাস্থ্যদিকনির্দেশনা অনুসারে, এমন জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য।


খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও মোটেই আশঙ্কামুক্ত নয়। ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে না আসায় বিদেশযাত্রা এবং চিকিৎসা পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা চলছে। দেশের মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও চিকিৎসকরা যথাসম্ভব নিরাপদ ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দিতে চেষ্টা করছেন।

সর্বাধিক পঠিত