পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক জানালেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকারের আন্তরিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। রাজধানীতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে। পুরো বক্তব্যে তিনি বারবার পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।
পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন বলেন,

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছেন, যেখানে কোনো নাগরিক ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে পিছিয়ে থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সরকারের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পাহাড়ের মানুষের জীবনমান
সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরণ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং খরা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনে।
এই পরিস্থিতিতে কৃষি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব উদ্যোগ সরাসরি পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক সেমিনারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত “হিন্দু-কুশ হিমালয় অঞ্চলে সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজন সমাধান” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন এমপি। এসময় তিনি পুনরায় বলেন, পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারের অগ্রাধিকার
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি উল্লেখ করেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করে একটি সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এখানে পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ধরা হয়েছে।
দেশি-বিদেশি সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী জানান, জনকল্যাণমূলক যেকোনো প্রকল্প—বিশেষ করে পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে—দেশি ও বিদেশি সংস্থার উদ্যোগকে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
আলোচনায় অন্যান্য বক্তারা
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন—
- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম
- ইসিমোডের সিনিয়র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জেসিকা এমিলি ফুলউড থমাস
- আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব
- ফাদাং তাং রান্ডাল
- শেফালিকা ত্রিপুরা
- মে মে ন্যু মারমা
- আরিফুর রহমানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা
তারা সবাই পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ
সেমিনারে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




