এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (9)
তেলের দামে বড় পতন: বিশ্ববাজার
Untitled design (30)
সোমালি জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বাড়ছেঃ ইয়েমেন উপকূলে তেলবাহী জাহাজ ছিনতাই
Untitled design (12)
ইরানের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প: স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ‘যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হচ্ছে না’
Untitled design (9)
ইরানের পর আরো একটি দেশ দখলের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
Shikor Web Image (25)
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গ্রেনেডে ‘আত্মঘাতী’ সেনাদের প্রশংসা করলেন কিম জং–উন

ইন্দোনেশিয়া শ্রীলঙ্কা বন্যায় নিহত নিখোঁজ ২০০০+

ইন্দোনেশিয়া শ্রীলঙ্কা বন্যায় নিহত নিখোঁজ দুই হাজার ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে নজিরবিহীন বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ মানবিক সংকট।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানবসভ্যতার জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়া শ্রীলঙ্কা বন্যায় নিহত নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় গোটা অঞ্চলজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ও টানা বৃষ্টিপাত একযোগে আঘাত হানায় এই বিপর্যয় আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।

বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকলেও অনেক এলাকা এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহতা

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (BNPB) জানিয়েছে, সুমাত্রা দ্বীপে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৯৯৫ জন নিহত এবং ২২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এই অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক ভূমিধস নেমে আসে।

উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এসব অঞ্চলে ৩২ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু গ্রাম সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

আহতদের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি, যাদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার কার্যক্রমে চরম বাধার সম্মুখীন হচ্ছে জরুরি সেবাদানকারী দল।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’-এর তাণ্ডব

শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’ আঘাত হানার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৬৪০ জন নিহত এবং ২১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এই দুর্যোগে ১৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে গ্রাম, শহর ও কৃষিজমি। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে আবাসন খাতে।

সরকারি তথ্যে জানা গেছে, প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, যার মধ্যে ৫ হাজার ৭০০টির বেশি ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। হাজার হাজার পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া শ্রীলঙ্কা বন্যায় নিহত নিখোঁজ: আঞ্চলিক সংকট

শুধু ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কাই নয়, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ থাইল্যান্ডে ১৮৫ জন নিহত এবং ৩৬৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

ভারতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অন্তত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই ধরনের দুর্যোগে মালয়েশিয়ায় ৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়া শ্রীলঙ্কা বন্যায় নিহত নিখোঁজ সংকট এখন আর কোনো একক দেশের সমস্যা নয়; এটি একটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মানবিক চ্যালেঞ্জ।

উদ্ধার কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তা

দুই দেশেই সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে। তবে দুর্গম এলাকা, ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক ও বৈরী আবহাওয়া উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তুলছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অস্থায়ী আশ্রয়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা দ্রুত না পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়ছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন।

নিম্নাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে ইন্দোনেশিয়া শ্রীলঙ্কা বন্যায় নিহত নিখোঁজ পরিস্থিতি এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।

সর্বাধিক পঠিত