ইসরায়েলি সেনার আত্মহত্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গাজা হামলার পর ৬১ জন সেনা মৃত্যুবরণ করেছেন। বিস্তারিত খবর ও বিশ্লেষণ Shikor TV Canada-তে পড়ুন।
গাজা হামলার পর ইসরায়েলি সেনার আত্মহত্যা বৃদ্ধি
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি হামলার পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত মানসিক সংকট দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬১ জন ইসরায়েলি সেনা আত্মহত্যা করেছেন। এই সংখ্যা ইসরায়েলি সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে একটি সামরিক ঘাঁটিতে সম্প্রতি এক সক্রিয় সেনা ‘ট্র্যাকার’ হিসেবে কাজ করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি নিজের ওপর গুলি চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ইসরায়েলের হারেৎজ সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি সেনার আত্মহত্যার পেছনের কারণ
১. যুদ্ধের মানসিক চাপ:
গাজায় হামলার পর সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যদিনের টার্গেট ও সংক্রমণের ভয় সেনাদের মানসিকভাবে দুর্বল করছে।
২. দীর্ঘ সেবা ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা:
সেনারা দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকেন। এ ধরনের বিচ্ছিন্নতা মানসিক সমস্যা ও হতাশা বাড়ায়।
৩. সামরিক বাহিনীতে সহায়তার অভাব:
সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য সাপোর্ট সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক সমস্যার সমাধান হয় না।
৪. আত্মনির্ভরতা ও চাপ মোকাবেলার অভাব:
অনেকে নিজের মধ্যে মানসিক চাপ মোকাবেলা করতে পারেন না। ফলে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হন।
৫. সামাজিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া:
সেনারা প্রায়ই নিজের সমস্যা প্রকাশ করতে ভয় পান। সামাজিক ট্যাবু ও মানসিক স্বীকারোক্তির অভাব আত্মহত্যা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান
২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ইসরায়েলের ২৭৯ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি সাতজন সেনার চেষ্টার বিপরীতে একজন সফলভাবে আত্মহত্যা করেছেন। এটি ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে একটি গম্ভীর সংকট নির্দেশ করে।
এই সংকট শুধু সামরিক বাহিনীর নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের গবেষণা ও তথ্যকেন্দ্র এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
মানসিক স্বাস্থ্য ও সমাধান
ইসরায়েলি সেনারা মানসিক স্বাস্থ্য সাপোর্টে আরও বেশি সহায়তা পেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন:
-
মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং ও থেরাপি সেবা বৃদ্ধি করা
-
সেনাদের পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করা
-
চাপ কমানোর জন্য বিশেষ কর্মশালা আয়োজন করা
এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে সেনাদের আত্মহত্যা রোধ করা সম্ভব।
ইসরায়েলি সেনার আত্মহত্যা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ঘটনা নয়। এটি সামরিক ও সামাজিক কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলছে। গাজা হামলার পর এই সংকটের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সামরিক বাহিনী ও সরকারকে উচিত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।




