হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান চীনের, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ১০টি জাহাজ ফেরত পাঠানো হয়েছে, উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালি অবরোধ নিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির প্রতি স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর একাধিক জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
চীন বলছে, হরমুজ প্রণালি অবরোধ পরিস্থিতিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা যেমন সম্মান করা জরুরি, তেমনি এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। বেইজিংয়ের মতে, প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি সর্বসম্মত অবস্থান রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সোমবার থেকে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর কোনো জাহাজই বাধা অতিক্রম করতে পারেনি এবং অন্তত ১০টি জাহাজকে ইতোমধ্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি অবরোধ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালি অবরোধ পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের উপকূলের দিকে যাওয়া বা নির্দিষ্ট নির্দেশনা না মানা জাহাজগুলোকে তারা ফিরিয়ে দিচ্ছে।
তাদের সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, কোনো জাহাজ অবরোধ ভেঙে অগ্রসর হতে পারেনি এবং মোট ১০টি জাহাজকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চীনের কূটনৈতিক অবস্থান
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়া উচিত নয়। তার মতে, এই জলপথ শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে একই সঙ্গে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে। যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং আলোচনায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে চীন সমর্থন জানাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, অবরোধের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক চাপ কমানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো, এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরান যে অর্থ আদায় করত তা বন্ধ করা এবং দেশটির তেল রপ্তানিতে চাপ সৃষ্টি করা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ইরানের উপকূলীয় বা সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করা হচ্ছে, অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা হুমকি
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি “দস্যুতা” হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরান জানিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপের জবাবে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং লোহিত সাগরে নৌ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা তারা বিবেচনা করতে পারে।
এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে, কারণ হরমুজ প্রণালি অবরোধ বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আরও জানায়, ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ বন্দর আব্বাস থেকে বের হওয়ার পর অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তবে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেটিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালি অবরোধ পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হওয়ায় হরমুজ প্রণালি অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক বাজারে মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।




