এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (69)
নিউজিল্যান্ড সিরিজে সাইফকে রেখেই দল ঘোষণা বাংলাদেশের
Shikor Web Image (54)
ভারত-ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল বৃষ্টিতে ভেসে গেলে ফাইনালে যাবে কারা?
Shikor Web Image (50)
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে কি আবারও ফিরল ‘চোকার্স’ তকমা?
Shikor Web Image - 2026-03-02T144320.883
রক্তাক্ত দেশ, তবুও প্রতিকূলতা ছাপিয়ে মাঠে নামছে ইরানের মেয়েরা
Shikor Web Image - 2026-03-02T143220.292
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার প্রভাব বিশ্বকাপে, দেশে ফেরা অনিশ্চিত জিম্বাবুয়ের

স্মিথ-হেড ইনিংস: অস্ট্রেলিয়ার বড় লিড

স্মিথ-হেড ইনিংস দেখালো অস্ট্রেলিয়ার শক্তি; হেড ও স্মিথের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৪ রানের লিড এনে দিয়েছে।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে তৃতীয় দিনে শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং, যেখানে স্মিথ-হেড ইনিংস ইংল্যান্ডের প্রতিরোধকে কার্যত ভেঙে দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রান তোলার পর জো রুটের দলের ২১৮ রানের পিছিয়ে থাকা অবস্থায়, ট্র্যাভিস হেড এবং স্টিভ স্মিথের ব্যাটিং তাণ্ডব অস্ট্রেলিয়াকে ১৩৪ রানের লিড এনে দিয়েছে।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছিল ২ উইকেটে ১৬৬ রানে। তৃতীয় দিনে হেড মাঠে নেমে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপ বাড়ান। নাইটওয়াচম্যান মাইকেল নেসারের সঙ্গে তিনি ৭২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।

হেড ও স্মিথের ব্যাটিং আক্রমণ

দ্বিতীয় সেশনে হেড ও স্মিথের জুটি আরও ৫৪ রান যোগ করে। হেড ১৬৩ রান করে আউট হন, যেখানে ২৪টি চার এবং ১টি ছক্কা ছিল। এরপর পুরো ইনিংস নিয়ন্ত্রণ নেন স্মিথ।

উসমান খাজা (১৭) এবং অ্যালেক্স ক্যারি (১৬) এই ইনিংসে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেননি। তবে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে স্মিথ ৭১ রানের জুটি গড়েন। দিনের শেষ ভাগে বেউ ওয়েবস্টারের সঙ্গে ৮১ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দিনের খেলা শেষ হয়।

দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৫১৮ রান।

স্মিথের অসাধারণ রেকর্ড

স্টিভ স্মিথ ২০৫ বলে ১২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১৬৬ বল খেলে তিনি ক্যারিয়ারের ৩৭তম সেঞ্চুরি করেন। এই ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি জুটি পঞ্চাশের ওপরে যায়—একটি টেস্ট ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্মিথ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডন ব্র্যাডম্যানের (৫০২৮) পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক। এছাড়াও, অ্যাশেজে তার এটি ১৩তম সেঞ্চুরি।

হেডের অনবদ্য পারফরম্যান্স

হেড এই সিরিজে পার্থ, অ্যাডিলেডের পর সিডনিতে তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন। এটি তার ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি শতক করা প্রথম অস্ট্রেলীয় ওপেনার হিসেবে নজির স্থাপন করে।

তিনি ১৫২ বলে দেড়শ রান করেন এবং ৯৬ বছরের পুরোনো ডন ব্র্যাডম্যানের রেকর্ডকেও অতিক্রম করেন। হেড বিশ্বের পাঁচটি ভিন্ন ভেন্যুতে টেস্ট সেঞ্চুরি করার বিরল কীর্তি গড়েন।

ইংল্যান্ডের কষ্টকর দিন

ম্যাথু পটস ও ব্রাইডন কার্সের বোলিং সেশন ইংল্যান্ডের জন্য হতাশাজনক ছিল। পটস ২৫ ওভারে ১৪১ রান দেন। চারটি ক্যাচ ফেলা যায়নি এবং একটি নিশ্চিত রানআউট সুযোগও নষ্ট হয়।

এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং এবং ফিল্ডিংয়ে চাপ তৈরি হয়। অ্যাশেজের অভিষেক ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।

স্মিথ-হেড ইনিংসের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি

  1. অস্ট্রেলিয়াকে ১৩৪ রানের লিড এনে দেওয়া।

  2. হেডের ঘরের মাঠে প্রথম সেঞ্চুরি

  3. স্মিথের ৩৭তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি

  4. অস্ট্রেলিয়ার একই ইনিংসে সাতটি ৫০+ জুটি, টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

  5. হেডের দ্রুততম ১৫০ করা (১৫২ বলে)।

  6. হেড বিশ্বের পাঁচটি ভিন্ন ভেন্যুতে টেস্ট সেঞ্চুরি করার বিরল কীর্তি।

  7. স্মিথ-হেড জুটির ম্যাচে অবদান, যা ইংল্যান্ডের চাপ বাড়িয়েছে।

এই সাতটি কীর্তি পুরো সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিজয় সম্ভাবনা শক্তিশালী করছে।

চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়া ১৩৪ রানের লিড নিয়ে খেলতে নেমে ইংল্যান্ডকে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। Shikor TV Canada-এর অন্যান্য ক্রিকেট আপডেট অনুযায়ী, স্মিথ ও হেডের ইনিংস পরবর্তী ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় সহায়ক হবে।

অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকরা আশা করছেন, স্মিথ-হেড ইনিংসের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ইংল্যান্ডকে মাঠে রুখে দিতে সক্ষম হবে স্বাগতিক দল।

সর্বাধিক পঠিত