প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২০২6 সালে আবার বাড়ল। বাজুস ঘোষণায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম বেড়ে ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।
প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২০২6 সালে আবারও ঊর্ধ্বমুখী। দেশের স্বর্ণ বাজারে নতুন করে মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ঘোষণার পর থেকেই ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে—এখন কি স্বর্ণ কেনার সঠিক সময়, নাকি অপেক্ষা করাই ভালো?
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার প্রভাবেই এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই দাম আজ বুধবারও বহাল রয়েছে।
বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী কত বাড়ল স্বর্ণের দাম?
বাজুসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দামে ২ হাজার ৯১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এই দামের সমন্বয় কার্যকর হয়েছে ৬ জানুয়ারি ২০২6 থেকে, যা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২০২6: নতুন তালিকা

নতুন ঘোষিত দাম অনুযায়ী বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নিচের মতো—
-
২২ ক্যারেট: ২,২৭,৭৮৫ টাকা
-
২১ ক্যারেট: ২,১৭,৫৩৪ টাকা
-
১৮ ক্যারেট: ১,৮৬,৪৪৯ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: ১,৫৫,৪২২ টাকা
এই তালিকা অনুযায়ী, সব ক্যারেটের স্বর্ণেই দাম বেড়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন বাড়ছে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২০২6 সালে?
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিই মূল কারণ। তবে বাস্তব চিত্র আরও বিস্তৃত।
প্রধান কারণগুলো হলো—
-
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
-
ডলার-টাকার বিনিময় হারে অস্থিরতা
-
আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি
-
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা
এই সব মিলিয়ে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২০২6 সালে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
রুপার দামও বাড়ল একসঙ্গে
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও মূল্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজুস ঘোষিত নতুন দর অনুযায়ী—
-
২২ ক্যারেট রুপা: ৫,৯২৫ টাকা
-
২১ ক্যারেট রুপা: ৫,৬৫৭ টাকা
-
১৮ ক্যারেট রুপা: ৪,৮৪১ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: ৩,৬৩৯ টাকা
রুপার এই মূল্যবৃদ্ধি গহনা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ক্রেতাদের ওপর কী প্রভাব পড়ছে?
প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২০২6 সালে বাড়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে—
-
বিয়ের গহনা কেনা পরিবারে
-
মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর
-
ছোট জুয়েলারি ব্যবসায়
অনেকে এখন স্বর্ণ কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন অথবা হালকা ও কম ডিজাইনের গহনার দিকে ঝুঁকছেন।
বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ: এখনো কি নিরাপদ?
দাম বাড়লেও স্বর্ণ এখনও একটি নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণের চাহিদা সাধারণত বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে—
-
দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণে বিনিয়োগ লাভজনক
-
হঠাৎ দাম কমার সম্ভাবনা কম
-
তবে স্বল্পমেয়াদে লাভের আশায় কেনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে
এই কারণে বিনিয়োগের আগে বাজার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।
আগের দামের সঙ্গে তুলনা করলে কী বোঝা যায়?
২০২5 সালের শেষ দিকে স্বর্ণের দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম ছিল। কিন্তু ২০২6 সালের শুরুতেই বড় অঙ্কের বৃদ্ধি বাজারে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল নয়।
এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সামনে আরও সমন্বয় আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা কী বলছেন?
জুয়েলারি দোকানিদের মতে, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২০২6 সালে বাড়ায় বিক্রি কিছুটা কমেছে। তবে উৎসব বা বিয়ের মৌসুমে চাহিদা আবার বাড়তে পারে।
অনেকে এখন কিস্তিতে গহনা বিক্রির দিকেও ঝুঁকছেন, যাতে ক্রেতারা ধীরে ধীরে মূল্য পরিশোধ করতে পারেন।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক
আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের দামের সঙ্গে বাংলাদেশের বাজার সরাসরি যুক্ত।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের আপডেট নিয়মিত প্রকাশ করে World Gold Council, যা একটি স্বীকৃত আন্তর্জাতিক সংস্থা।
👉 World Gold Council-এর তথ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়লে স্থানীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—
-
দাম আরও বাড়তে পারে
-
হঠাৎ বড় পতনের সম্ভাবনা কম
-
বাজুস ভবিষ্যতে আবারও দাম সমন্বয় করতে পারে
তাই যারা স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের উচিত নিয়মিত বাজার আপডেট দেখা।




