আরও খবর

News Photocard (24)
আন্তর্জাতিক গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে মিসর গেলেন কুমিল্লার আনিস
News Photocard (6)
নকভির ‘হাত থেকে’ পদক না নিলে শাস্তি হতে পারে ভারতের, যা বলছে বিসিসিআই
News Photocard (21)
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ইন্টারের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
News Photocard (12)
আর্জেন্টাইন ক্লাবের শতবর্ষী রেকর্ড চুরমার করল রোনালদোর দল
News Photocard (15)
সিপিএলে নেমেই মিরাজের স্পিন–ফাঁস, তাহির বললেন, ‘বিশ্বমানের বোলার’

ক্রিকেট হাইজ্যাক বিতর্ক: অভিযোগের মুখে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ

ক্রিকেট হাইজ্যাক বিতর্ক ঘিরে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন। মুস্তাফিজ, বিশ্বকাপ ও ভারতের রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

ক্রিকেট হাইজ্যাক বিতর্ক এখন আর শুধু মাঠের ভেতরের বিষয় নয়। এটি সরাসরি জড়িয়ে গেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক প্রতিদিন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ভারতে সফর না করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট মহলে শুরু হয় তীব্র আলোচনা।

মুস্তাফিজুর রহমান ও আইপিএল সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন

আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বিসিবি সূত্র জানায়, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল ক্রিকেটীয় কারণ নয়, বরং রাজনৈতিক চাপও কাজ করেছে।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, যদি মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় অন্য কোনো খেলোয়াড় থাকতেন, তাহলে এমন সিদ্ধান্ত হয়তো আসত না। এখান থেকেই ক্রিকেট হাইজ্যাক বিতর্ক নতুন করে জোরালো হয়।

সাবেক বিসিবি সচিব সৈয়দ আশরাফুল হকের তীব্র মন্তব্য

এই ইস্যুতে সবচেয়ে সরব কণ্ঠ হয়ে উঠেছেন বিসিবির সাবেক সচিব সৈয়দ আশরাফুল হক। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে এশিয়ার ক্রিকেট প্রশাসন কার্যত রাজনীতির হাতে জিম্মি।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,

“জগমোহন ডালমিয়া, আইএস বিন্দ্রা, মাধবরাও সিন্ধিয়া কিংবা এন শ্রীনিবাসনের সময়ে এমন ঘটনা কল্পনাও করা যেত না।”

তার মতে, তখনকার নেতৃত্ব ক্রিকেট বুঝত, খেলোয়াড়দের মানসিক ও পেশাগত প্রভাব বোঝার মতো পরিণত ছিলেন।

ক্রিকেট হাইজ্যাক বিতর্ক এবং জয় শাহের ভূমিকা

ক্রিকেট হাইজ্যাক বিতর্ক মূলত ঘুরপাক খাচ্ছে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের ভূমিকা নিয়ে। সমালোচকদের দাবি, তিনি কখনোই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে ক্ষমতাধর চেয়ারে বসে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।

সৈয়দ আশরাফুল হক বলেন,

“যারা কখনো ব্যাট ধরেননি, তারাই আজ ক্রিকেট চালাচ্ছেন।”

এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বকাপ বর্জন প্রসঙ্গে বিসিবির অবস্থান

বাংলাদেশের বিশ্বকাপের মতো একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাবেক এই কর্মকর্তা “হঠকারী” বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে,
বিশ্বকাপ কোনো আইপিএল নয়—এটি আন্তর্জাতিক মর্যাদার প্রতিযোগিতা।

ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।

নির্বাচন, ধর্মীয় আবেগ ও ক্রিকেট রাজনীতি

সৈয়দ আশরাফুল হকের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি দাবি করেছেন,
এই পুরো ঘটনাটি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

তার ভাষায়,

“পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে নির্বাচন সামনে রেখে সস্তা ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

এই বক্তব্য ক্রিকেট হাইজ্যাক বিতর্ক-কে শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়, বরং রাজনৈতিক বিশ্লেষণের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচ

বর্তমান সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ নির্ধারিত ছিল—

  • তিনটি কলকাতায়

  • একটি মুম্বাইতে

তবে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এই সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আইসিসির অবস্থান এখনো অস্পষ্ট

এই ক্রিকেট হাইজ্যাক বিতর্ক নিয়ে এখনো আইসিসি আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানো হবে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে এই ঘটনা

এই ঘটনা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।
রাজনৈতিক প্রভাব যত বাড়বে, ক্রিকেট তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্বকাপের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রিকেট হাইজ্যাক বিতর্ক ততই জটিল হচ্ছে।
আইসিসির সিদ্ধান্ত, বিসিবির অবস্থান এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ভূমিকা—সবকিছুই এখন পর্যবেক্ষণের মধ্যে।

একটি বিষয় স্পষ্ট—এই বিতর্ক শুধু একটি দলের নয়, পুরো এশিয়ান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সর্বাধিক পঠিত