শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ। স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তার ৯০তম জন্মদিনে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ সোমবার। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে তাঁর অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা, স্মরণ ও মূল্যায়নে মুখর পুরো দেশ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সাহস, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর জীবন ও কর্ম আজও রাজনীতি, রাষ্ট্রচিন্তা এবং জাতীয় আত্মপরিচয়ের আলোচনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।
শৈশব ও পারিবারিক পরিচয়
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নিভৃত পল্লী বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর ডাকনাম ছিল কমল। বাবা মনসুর রহমান ছিলেন একজন প্রখ্যাত রসায়নবিদ ও তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। মা জাহানারা খাতুনের আদর্শ ও শৃঙ্খলাবোধ তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।
পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান জিয়াউর রহমান ছোটবেলা থেকেই ছিলেন আত্মপ্রত্যয়ী ও দায়িত্বশীল।
সামরিক জীবন ও প্রশিক্ষণ
১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন তিনি। কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বগুণের কারণে দ্রুতই সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন।
১৯৬৭ সালে ঢাকার অদূরে জয়দেবপুর সাব-ক্যান্টনমেন্টে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরে তিনি উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য পশ্চিম জার্মানি যান, যা তাঁর পেশাগত দক্ষতা আরও শাণিত করে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় ভূমিকা
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী স্মরণ মানেই ফিরে দেখা ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসে তাঁর বজ্রকণ্ঠ—
“আমি মেজর জিয়া বলছি, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।”
এই ঘোষণাই দিশাহারা জাতিকে দেয় সাহস ও দিকনির্দেশনা। তাঁর কণ্ঠে স্বাধীনতার ডাক শুনে লাখো মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে।
জেড ফোর্স ও যুদ্ধ পরিচালনা
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে তিনি চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে সফলভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। পরে গঠন করেন চৌকস জেড ফোর্স, যা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাফল্য এনে দেয়।
স্বাধীনতা-উত্তর সংকট ও নেতৃত্বে আবির্ভাব
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ গভীর অনিশ্চয়তায় পড়ে। ৩ নভেম্বর তাঁকে বন্দি করা হলেও ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সৈনিক-জনতার বিপ্লবে তিনি মুক্ত হন।
এই সময় নেতৃত্বশূন্য জাতি তাঁকে দায়িত্ব দেয় রাষ্ট্র পরিচালনার। সংকটময় মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব নিয়ে জাতিকে স্থিতিশীলতার পথে ফেরান।
রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অবদান

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেই—
-
বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন
-
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন
-
অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নেন
-
গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন দর্শন প্রবর্তন করেন
তিনি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট SAARC গঠনের উদ্যোগ নেন, যা আজও তাঁর দূরদর্শিতার প্রমাণ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও তাঁর শাহাদাত
জনপ্রিয়তা ও দেশপ্রেমই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি শহীদ হন।
তবে তাঁকে হত্যা করা গেলেও তাঁর আদর্শ, দর্শন ও অবদানকে মুছে ফেলা যায়নি। শেরেবাংলানগরে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি ছিল এরই প্রমাণ।
বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক, যিনি গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে—
-
সারাদেশে দলীয় পতাকা উত্তোলন
-
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
-
শেরেবাংলানগরে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ
আগামীকাল কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
কেন আজও প্রাসঙ্গিক জিয়াউর রহমান
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
-
সংকটে সাহসী নেতৃত্ব কতটা প্রয়োজন
-
গণতন্ত্রের বিকল্প নেই
-
জাতীয় ঐক্য ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়
তাঁর আদর্শ আজও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।




