পোস্টাল ব্যালট ভোট দ্রুত পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন কমিশন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার শেষ সময় ও ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জানিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালট ভোট দ্রুত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধন করা ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ব্যালট হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভোট প্রদান সম্পন্ন করে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে তা জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে পৌঁছানো ব্যালট ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
শনিবার প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেসসচিব ফয়েজ আহম্মদ নিজের ফেসবুক পোস্টে নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হতে হলে রিটার্নিং অফিসারের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যালট পৌঁছানো বাধ্যতামূলক।
এই ঘোষণার ফলে প্রবাসী ও দেশের বাইরে অবস্থানরত ভোটারদের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। কারণ, পোস্টাল ব্যালট ভোট দ্রুত পাঠানোর আহ্বান কার্যকর না হলে বহু ভোট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পোস্টাল ব্যালট ভোট দ্রুত পাঠানোর আহ্বান: সময়সীমা কী বলছে ইসি
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ভোটাররা ব্যালট পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব ভোট প্রদান করবেন। এরপর হলুদ রঙের নির্ধারিত খামে ব্যালট ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিতে হবে।
ইসি জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে যদি ব্যালট রিটার্নিং অফিসারের হাতে পৌঁছে, তবেই সেটি ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট পর পৌঁছালেও সেই ভোট বাতিল বলে গণ্য হবে।
এই কারণেই বারবার পোস্টাল ব্যালট ভোট দ্রুত পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।
কতজন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার। এর মধ্যে একটি বড় অংশ প্রবাসী বাংলাদেশি।
এই বিপুল সংখ্যক ভোটার সময়মতো ভোট না পাঠালে নির্বাচনের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসির নির্দেশনা
শুধু ভোট পাঠানোর আহ্বান নয়, পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাতেও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরে এ বিষয়ে একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে—
-
প্রতি ৪০০টি পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি ব্যালট বাক্স ব্যবহার করতে হবে
-
প্রতিটি ব্যালট বাক্স চারটি লক দিয়ে সিল করতে হবে
-
প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের উপস্থিতিতেই সিল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে
এই নির্দেশনাগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
ব্যালট বাক্সে যেসব তথ্য বাধ্যতামূলক
ইসির পরিপত্র অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যালট বাক্সে—
-
আসনের নাম ও নম্বর উল্লেখ করে স্টিকার লাগাতে হবে
-
সিল দেওয়ার আগে বাক্স ও লকের নম্বর উচ্চস্বরে পাঠ করতে হবে
-
সেই নম্বরগুলো লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে
এই পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য করার লক্ষ্যেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী ভোটারদের জন্য বিশেষ সময়সীমা
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে সময় আরও সীমিত। তাদের অবশ্যই ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদান সম্পন্ন করে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে পাঠাতে হবে।
এই সময়সীমা অতিক্রম করলে ভোট গণনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ভোট দ্রুত পাঠানোর আহ্বান আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় মাইকের শব্দমাত্রা নির্ধারণ
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে—
-
মাইকের শব্দমাত্রা ৬০ ডেসিবলের নিচে রাখতে হবে
-
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে
এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের ভোগান্তি কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন পোস্টাল ব্যালট ভোট দ্রুত পাঠানো জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি কার্যকর করতে সময় ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডাকযোগে বিলম্ব হলে ভোট বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাই নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পোস্টাল ব্যালট ভোট দ্রুত পাঠানোর আহ্বান শুধু পরামর্শ নয়, বরং ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার একটি জরুরি নির্দেশনা।




