এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (6)
জাতিসংঘে অভিবাসী অধিকার ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বানঃ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
Untitled design (3)
১৮ জেলার জন্য সতর্কবার্তা জারিঃ নদীবন্দরে সতর্কতা
Untitled design
আন্ডারওয়ার্ল্ডের চেয়েও ভয়ংকর এখন সাইবারওয়ার্ল্ড
Untitled design (13)
বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে বড় বাধা সরকারি সংস্থার ধীরগতির কার্যক্রম: মির্জা ফখরুল
Untitled design (10)
তেল-গ্যাসের পর এবার দাম বাড়তে পারে বিদ্যুতেরঃ বিইআরসি

দুদক সংস্কারের বিপক্ষে ছিলেন সাত উপদেষ্টা: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারের বিপক্ষে ছিলেন সাত উপদেষ্টা, দুদক সংস্কার বাধা রোধে সরকারি উপদেষ্টাদের অনাগ্রহ টিআইবিকে হতাশ করেছে। জানুন কীভাবে সরকারের কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।

দুদক সংস্কার বাধা বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক

ড. ইফতেখারুজ্জামান সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, “শুধু আমলাতন্ত্রের একটি অংশ সংস্কার চায় না। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্য তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা আমাদের অত্যন্ত হতাশ করেছে।”

সংস্কার কমিশনের কিছু সুপারিশ বাস্তবায়িত হলেও, এর মাধ্যমে তেমন অগ্রগতি হয়নি। বরং কিছু কৌশলগত সুপারিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ ও সীমাবদ্ধতা

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে।

  • নতুন সংস্কার কমিশন গঠন

  • ঐকমত্য কমিশন গঠন

  • একাধিক হোয়াইট পেপার কমিটি

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক সচিবালয়

তবে তিনি বলেন, “যেসব মৌলিক সুপারিশে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য আছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকারকাঠামো তৈরি করা। কিন্তু সরকারের পদক্ষেপে তা দেখা যায়নি।”

দুদক সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মৌলিক সুপারিশের বাস্তবায়ন ব্যর্থ

সংস্কার কমিশন থেকে মোট ৪৭টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু সুপারিশ সরকারের সিদ্ধান্তে হবে, কিছু অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে, এবং কিছু দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজে বাস্তবায়ন করবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “গত বছরের মার্চে সুপারিশগুলো সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে দু-একটি হয়তো বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুদকের অভ্যন্তরে অত্যন্ত জোরালোভাবে দুর্নীতি বিরাজ করছে। যারা দায়িত্বে, তাদেরও বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।”

সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান

দুর্নীতি প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণে চারটি উপাদান অপরিহার্য:

  1. রাজনৈতিক সদিচ্ছা – ক্ষমতায় যারা আছেন তাদেরই মূল দায়িত্ব

  2. সকলের জবাবদিহি – অভিযোগের বিষয় যেকোনো পর্যায়ের কর্মকর্তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য

  3. কার্যকর প্রতিষ্ঠান – দুর্নীতি দমন কমিশন ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানকেও শক্তিশালী করতে হবে

  4. জনসচেতনতা – সাধারণ মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে

এই চারটি উপাদান একসাথে মিললে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

 রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাব

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, “আমাদের দেশে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে অর্থ, পেশি, ধর্ম সর্বদা প্রাধান্য পায়। জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মের প্রভাব ক্রমবর্ধমান। শুধু ধর্মকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল নয়, বড় রাজনৈতিক দল এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তি ধর্মকে রাজনৈতিক মাইলেজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি স্বাধীনতার মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

দুদক সংস্কার বাধা মোকাবিলা

দুদক সংস্কার বাধা শুধু সরকারের সিদ্ধান্তে নয়; এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সুশাসন, স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক দৃঢ়তার সমন্বয়।

দুদক সংস্কার বাধা দেশের জবাবদিহিমূলক কাঠামো গঠনে বড় প্রতিবন্ধকতা। সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না হলে জনগণের আস্থা হ্রাস পাবে। সঠিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

সর্বাধিক পঠিত