এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
কমল সোনার দামঃ ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
এক লাখ কোটি টাকার আমানতের ক্লাবে এবার পূবালী ব্যাংক
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (11)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
বস্ত্র খাতে প্রণোদনা বৃদ্ধি: ৫% নগদ সহায়তার বড় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
দাম বাড়ার পর আজ যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি

ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা

ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকার ফাঁক, বিশ্লেষকরা বলছেন নতুন সরকারের আয় বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। তবে দেশের অর্থনৈতিক দুর্বলতা নতুন সরকারের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব, বিনিয়োগে কমতি এবং ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতার কারণে সরকারের কোষাগারে টান পড়ছে। বিশেষত লাগামহীন সুদের হার পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি বাংলাদেশ ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল দুই লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে তিনটি প্রধান খাতে ঘাটতি হয়েছে ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা।

আয়কর খাতে ভয়াবহ ঘাটতি

রাজস্ব ঘাটতি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অংশ হয়েছে আয়কর খাতে। এই খাতে লক্ষ্য ছিল এক লাখ তিন হাজার ৯৮০ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৭৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। কম্পানি শ্রেণির করদাতারা বছরের বিভিন্ন সময়ে অগ্রিম ও উৎস কর জমা দেন। এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ের করদাতারাও আয়কর প্রদান করেন।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, “দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের টার্নওভার বাড়লে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। তবে আইন-শৃঙ্খলা ও নীতি-নির্ধারণ ভালো না হলে ব্যবসায়ীরা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করবেন না। নতুন সরকার কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই বিনিয়োগ ও আয় বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।”

আমদানি ও ভ্যাটে সংকোচন

আমদানি খাতে লক্ষ্য ছিল ৭৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৬২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। সরকারি প্রকল্প স্থবির হওয়ায় শিল্প ও কাঁচামাল আমদানি কমেছে।

ভ্যাট খাতেও ঘাটতি হয়েছে উল্লেখযোগ্য। লক্ষ্য ছিল এক লাখ এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ৮৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের আয় কমে যাওয়ায় ভোগের পরিমাণ কমেছে, যা ভ্যাট আদায়ে প্রভাব ফেলেছে।

সরকারের সামনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

রাজস্ব ঘাটতি বাংলাদেশের এই চিত্র নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে তৎপর নয়, সরকারি প্রকল্প স্থবির। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নয়। ফলে রাজস্ব আদায়ের উপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

তথ্য অনুযায়ী, মানুষের আয় বাড়ছে না। সরকারি হিসাবে জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৫৮ শতাংশ। বাসাভাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক উচ্চ সুদের হার বজায় রেখে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তবে কাঙ্ক্ষিত ফল এখনও আসেনি।

সমাধানের জন্য প্রস্তাবনা

বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজস্ব ঘাটতি বাংলাদেশ কমানোর জন্য ব্যবসায়কে উৎসাহ দিতে হবে। করনীতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত, সরকারি প্রকল্পের কার্যক্রম এবং আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত পদক্ষেপ নিলে সরকার আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগও আকর্ষণ করতে পারবে।

সর্বাধিক পঠিত