ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম ধাপে ২০৪ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে। সরকার দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়।
সরকার জুলাই মাসে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২৬ শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। প্রথম ধাপে ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়া হবে। এই ধাপে সবচেয়ে বেশি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায়। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন হতে পারে বছরের শেষের দিকে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার নিরঙ্কুশ জয়লাভ করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করতে চায়। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কি না, তা জাতীয় সংসদ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছে। ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে।
প্রথম ধাপের ২০৪ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং তার প্রেক্ষাপট

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, কোনো ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে নির্বাচিত ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবার নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সব জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কতটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান ও প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন, তা বিস্তারিত ছকে পাঠাতে। এই তথ্য নতুন সরকারের জন্য নির্বাচন প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমানে দেশে ৪,৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর প্রায় দেড় হাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দায়িত্ব থেকে সরে যান। বাকি ইউপি চেয়ারম্যানরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। অনুপস্থিত ইউনিয়নগুলিতে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ জানান, এ জেলায় কতটি ইউনিয়নে প্রশাসক রয়েছেন এবং আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনও জানিয়েছেন, তাঁর জেলায় কয়েকটি ইউনিয়ন প্রশাসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২৬: দলীয় প্রতীকের বিষয়
২০১৫ সালে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য আইন সংশোধন করা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দলীয় প্রতীকে নির্বাচন বাতিল করে। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২৬ দলীয় প্রতীকে হবে কি না, তা জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “দলীয় প্রতীকে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা জাতীয় সংসদে নির্ধারণ হবে।”
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদ, তৃতীয় ধাপে ১০০৪টি, চতুর্থ ধাপে ৮৩৬টি এবং পঞ্চম ধাপে ৭০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে।
ভোটার এবং নাগরিক সেবার প্রভাব
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন দেশের জন্য ক্ষতিকর। সহিংসতা বেড়ে গেছে, ভালো প্রার্থীরা অংশ নিতে পারেননি। নির্বাচন এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যখন নির্দলীয় নির্বাচন হতো, তখন অনেক সম্মানিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তি অংশগ্রহণ করতেন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় প্রার্থী সংখ্যা কমে গেছে। তাই ভবিষ্যতের নির্বাচন অবশ্যই নির্দলীয় হওয়া উচিত।”
ইউপি নির্বাচনের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২৬ দেশের সর্বনিম্ন স্থানীয় সরকার কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হলে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত হবে।
ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে নির্বাচনের মাধ্যমে সব ইউনিয়ন পরিষদে পূর্ণ ভোটার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার।




