এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (72)
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে যে বার্তা দিল সরকার
Shikor Web Image (61)
তেল সংকটে পেট্রল পাম্পে ভিড়: নোটিশ ঝুলছে তবু কমছে না
Shikor Web Image (56)
সীমিতভাবে চালু মধ্যপ্রাচ্য ফ্লাইট
Shikor Web Image (47)
রাজনীতি নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে একজন রাজসাক্ষী পেলাম, তার নাম রিজওয়ানা : তাহের
Shikor Web Image (44)
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

চলতি বছর ৪ হাজার ৬৫৩টি স্থানীয় সরকারের ভোট করবে ইসি

চলতি বছর ৪ হাজার ৬৫৩টি স্থানীয় সরকারের ভোট করবে ইসি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে বড় ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশের ৪ হাজার ৬৫৩টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হবে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে ভোট আয়োজনের দায়িত্ব নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

সোমবার (৯ মার্চ) ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ—সব মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কবে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা মূলত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ২০২৬: কত প্রতিষ্ঠান ভোট উপযোগী

ইসি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশের বিপুল সংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় থাকবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী—

  • দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে

  • এর মধ্যে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এ বছর নির্বাচন উপযোগী হবে

  • আগামী বছরে আরও ৩৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদ ভোটের জন্য উপযোগী হবে

এছাড়া বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে—

  • ৩৩০টি ভেঙে দেওয়া পৌরসভা

  • ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ

  • ১২টি সিটি করপোরেশন

  • ৬১টি জেলা পরিষদ

সব মিলিয়ে এ বছর ৪ হাজার ৬৫৩টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত কার হাতে

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেই সঙ্গে সঙ্গে ভোট আয়োজন করা হয় না। এর সময়সূচি নির্ধারণে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে হওয়া এসব নির্বাচন সম্পর্কে কর্মকর্তারা বলেন, সরকারই মূলত সিদ্ধান্ত নেয় কখন নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেবল ভোট আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে।

অর্থাৎ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন নিয়ে চিঠি

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এর ফলে কমিশন এখন সম্ভাব্য সব নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের এই উদ্যোগের কারণে নির্বাচন কমিশনের কাজের চাপও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।

নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে সবসময়ই নানা ধরনের নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব থাকে।

তার ভাষায়,

“নির্বাচন কমিশনের কোনো অবসর নেই। সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি অনেক স্থানীয় নির্বাচনও আয়োজন করতে হয়। ফলে সারা বছরই নির্বাচন কার্যক্রম চলতে থাকে।”

তিনি আরও জানান, ঈদের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতির কাজ জোরদার করা হবে

দলীয় নাকি নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোন প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে—দলীয় না নির্দলীয়—এ প্রশ্নেও আলোচনা চলছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিকে নজর রাখা হচ্ছে

তিনি বলেন,

“দলীয় প্রতীক নাকি নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে—এ বিষয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। আইন অনুযায়ী একটি ভালো নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুত থাকবে।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গুরুত্ব

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন, সেবা ও প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তাই নিয়মিত সময়ের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ২০২৬ সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের তথ্য থেকে।

নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি

বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে ভোট আয়োজনের সম্ভাবনার কারণে নির্বাচন কমিশন এখন থেকেই প্রস্তুতির পরিকল্পনা করছে।

এর মধ্যে থাকতে পারে—

  • ভোটার তালিকা হালনাগাদ

  • প্রশাসনিক প্রস্তুতি

  • নির্বাচন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন

  • ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা

  • আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা

এসব কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণ: কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় কম আলোচিত হলেও বাস্তবে এটি প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তর।

কারণ—

  • স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন

  • নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা

  • স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি

  • তৃণমূল প্রশাসন পরিচালনা

এসব ক্ষেত্রেই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ২০২৬ শুধু নির্বাচন কমিশনের জন্য নয়, প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্ভাব্য সময়সূচি

বর্তমানে নির্বাচন কমিশন বলছে, ঈদের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

সরকারের সিদ্ধান্ত ও আইনগত কাঠামোর ওপর নির্ভর করেই ধাপে ধাপে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, চলতি বছর ৪ হাজার ৬৫৩টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় দায়িত্ব আসছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন—সব স্তরের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে হবে কমিশনকে।

তবে নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্ধারণ করবে সরকার। অন্যদিকে, দলীয় নাকি নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে—সে বিষয়েও সংসদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত