এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (34)
মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন
Untitled design (31)
ভূমি কর্মকর্তাদের জন্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা
Untitled design (22)
নির্ধারিত সময়ের শুরুতে রিটার্ন জমা দিলে করছাড়, দেরিতে গুনতে হবে জরিমানা
Untitled design (20)
জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা
Untitled design (16)
তেলের মজুদ তিন মাসে উন্নীতসহ ১২ দফা সুপারিশ

গণভোটের রায় না মানলে আন্দোলনে কোনো বিশ্রাম নেই: জামায়াত আমির

গণভোটের রায় না মানলে আন্দোলনে কোনো বিশ্রাম নেই জামায়াত আমির শফিকুর রহমান কঠোর অবস্থান জানান। সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখার বিস্ফোরক বার্তা উঠে আসে।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণ-সমাবেশে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন আন্দোলন থামবে না যতক্ষণ না জনগণের রায় কার্যকর হয়। খেলাফত মজলিস আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বলেন, আন্দোলন শুধু রাজপথে নয়, সংসদেও চলবে এবং এক পর্যায়ে এই দুই ধারার আন্দোলন একীভূত হবে।

তার বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল—গণভোটের রায় অমান্য করা হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে এবং জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করা হবে ঐতিহাসিক ভুল।

গণ-সমাবেশে শফিকুর রহমানের কঠোর বার্তা

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত এই সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো ছাড়া রাজনৈতিক সংকটের সমাধান নেই।

তার ভাষায়, সংসদ ও রাজপথের আন্দোলন যখন একাকার হবে, তখন তা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বালুর বাঁধ দিয়ে নদীর জোয়ার ঠেকানোর উপমা টেনে বলেন, জনগণের ঢেউও সেভাবেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামের সুযোগ নেই।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন আন্দোলন কেন জোরালো হচ্ছে

শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে দাবি করেন, গণভোটকে কার্যকর আইনি পদ্ধতি হিসেবে স্বীকার করার কথা সংশ্লিষ্ট পক্ষ নিজেরাই আগে বলেছিল। তার ভাষ্যে, নির্বাচন প্রচারে গণভোটের পক্ষে সমর্থন চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে সেটিকে অবৈধ বলা হচ্ছে—এটিকে তিনি “সুবিধাবাদী অবস্থান” হিসেবে আখ্যা দেন।

তিনি সংসদে প্রশ্ন তোলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, নির্বাচনের আগে বৈধ ছিল কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট জবাবও পাওয়া যায়নি।

এই প্রসঙ্গেই তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন আন্দোলন-কে জনগণের অধিকার আদায়ের ধারাবাহিক সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরেন।

১৯৭১-এর প্রসঙ্গ টেনে ঐতিহাসিক ইঙ্গিত

আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর বক্তব্যের সূত্র ধরে জামায়াত আমির ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জনগণের রায় অস্বীকার করার ফল অতীতে ভালো হয়নি।

তার বক্তব্যে উঠে আসে, তখন যেমন গণরায় উপেক্ষা সংঘাত ডেকে এনেছিল, এবারও জনগণের রায় অস্বীকার করলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করতে চাইলে গণরায়ও মানতে হবে।

আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ নিয়ে অবস্থান

সমাবেশের মঞ্চ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, এই মঞ্চ আধিপত্যবাদ বা ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না।

তার মতে, যারা এই মঞ্চে রয়েছেন, তারা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামে প্রমাণ করেছেন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না।

এ বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্নও উত্থাপন করেন।

অতীতের আন্দোলন বনাম বর্তমান বাস্তবতা

তিনি বলেন, যারা একসময় রাজপথে মজলুম হিসেবে আন্দোলন করতেন, তাদেরই একটি অংশ সরকারে গিয়ে অতীত ভুলে গেছে।

এই কারণেই নতুন করে রাজপথে নামতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার অভিযোগ, জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় বর্তমান দাবির জন্ম।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান সমালোচনা

শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে সবাইকে নিয়ে দেশ চালানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার বক্তব্যে আরও আসে, রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন দলকে ভিন্নভাবে ব্যবহারের অভিযোগ এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার সমালোচনা।

এই অংশে তিনি দুটি স্লোগান স্মরণ করিয়ে দেন—
“উই ওয়ান্ট জাস্টিস”
“দেশটা কারো বাপের নয়”

তার মতে, এই স্লোগানগুলো এখনও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

জুলাই সনদ ও গণভোট বিতর্ক

বক্তৃতায় তিনি জুলাই সনদের বাস্তবায়নে গণভোটকে কার্যকর পথ হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি দাবি করেন, এই প্রস্তাব নতুন নয়; সংশ্লিষ্ট পক্ষের ভেতর থেকেই এটি আগে উত্থাপিত হয়েছিল।

এখানে তার মূল বার্তা ছিল—গণভোটের প্রশ্নে অবস্থান বদল রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন তৈরি করছে।

সংসদ ও রাজপথ—দুইমুখী চাপের কৌশল

শফিকুর রহমানের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়, কৌশলগতভাবে সংসদীয় ও মাঠের আন্দোলন সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এটি শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং চাপ সৃষ্টির রাজনৈতিক রূপরেখা বলেও বিশ্লেষকরা দেখছেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন আন্দোলন-এর এই ফ্রেমে তিনি দাবি করেছেন, এটি কোনো একক দলের নয়, বরং বৃহত্তর জনগণের দাবি।

সমাবেশের রাজনৈতিক তাৎপর্য

খেলাফত মজলিসের এই গণ-সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশেষত গণভোটের বৈধতা, জনগণের রায়, সংসদীয় ভূমিকা এবং আন্দোলনের ধারাবাহিকতা—এই চারটি বিষয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য ভবিষ্যৎ বিরোধী রাজনীতির কৌশল বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বাধিক পঠিত